মঙ্গলবার ও বুধবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ জালাল, মাজার কমিটির সদস্য ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাজার ও মহাস্থান বন্দরে স্থাপিত ১৫টি লোহার সিন্দুক খোলা হয়। সিন্দুকগুলো খুলতেই বেরিয়ে আসে বস্তা বস্তা টাকা, অসংখ্য কয়েন, বিদেশি মুদ্রা এবং ভক্তদের দান করা স্বর্ণ-রৌপ্য অলংকার।
সাধারণত প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর দানবাক্স খোলা হলেও এবার দীর্ঘ বিরতির পর সিন্দুকগুলো খোলা হয়। ফলে ভেতরে জমে থাকা দানের পরিমাণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
টাকা গণনার বিশাল এই কর্মযজ্ঞে অংশ নেন স্থানীয় অগ্রণী ব্যাংকের ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, মাজার কমিটির সদস্য এবং মহাস্থান উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৫ জন শিক্ষার্থী। মাজারের অফিস কক্ষে বসে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে টাকা বাছাই ও গণনার কাজ করেন।
গণনার দায়িত্বে থাকা এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, “গতকাল সকাল থেকে আমরা বিরতিহীনভাবে টাকা গুণছি। কয়েন ও কাগজের নোট আলাদা করতেই অনেক সময় লেগেছে। ছেঁড়া, পুরোনো ও নোংরা নোটগুলোও পৃথক করতে হয়েছে।”
এই কাজে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ নেওয়া মহাস্থান উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, “শিক্ষকদের মাধ্যমে আমরা এখানে এসেছি। মাজারের দানের টাকা গণনার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে।”
স্থানীয়দের মতে, শুধু একটি দানবাক্স খোলার ঘটনা নয়, এটি মানুষের বিশ্বাস, ভক্তি ও আস্থার এক অনন্য প্রতিফলন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থী ও ভক্তদের দানেই বছরের পর বছর ধরে সমৃদ্ধ হচ্ছে শতাব্দীপ্রাচীন এই মাজার।
দুই দিনের দীর্ঘ গণনা শেষে যে অঙ্কটি সামনে এসেছে, তা শুধু টাকার হিসাব নয়; বরং হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহীসওয়ার (রহ.)-এর প্রতি মানুষের অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসারও এক নীরব দলিল।