নিহত আসাদুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি ফরিদপুরের কানাইপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটার শ্রমিক হিসেবে ঝিনাইদহে কাজ করতে এসেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে ঝিনাইদহ সদর এলাকায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাত। এ সময় সদর উপজেলার ৭ নং মহারাজপুর ইউনিয়নের মায়াধরপুর গ্রামের মাঠে কয়েকজন শ্রমিক ধান কাটা ও আঁটি বাঁধার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতে আসাদুল ইসলামসহ দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত শ্রমিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে একই সময়ে সদর উপজেলার ধোপাঘাটা গোবিন্দপুর ও দোগাছি গ্রামে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় আরও তিন নারী আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। স্থানীয়ভাবে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারিহা তাহসিন জানান, বজ্রপাতে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার আগেই আসাদুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছিল। অন্য আহতরা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন,“বজ্রপাতে এক কৃষি শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। নিহতের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তসহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
বোরো মৌসুমে মাঠে কাজ করতে এসে বজ্রপাতে শ্রমজীবী এক কৃষকের এমন করুণ মৃত্যুতে মহারাজপুর ইউনিয়নের মায়াধরপুর গ্রামসহ সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।