সোমবার (১৮ মে) দুপুরের দিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায় ,কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ঘরবাড়ি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবতার জীবন যাপন করছেন।
স্থানীয়রা জানায়, ওইদিন রাত সাড়ে তিনটার দিকে হঠাৎ করে কালবৈশাখীর ঝড়ের তান্ডব শুরু হয়। মাত্র পাঁচ থেকে সাত মিনিটের ওই ঝড়ে সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার প্রায় তিন শতাধিক পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুলছড়ি উপজেলায় এরেন্ডাবাড়িসহ কয়েকটি ইউনিয়ন ও গ্রামের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এছাড়া ফুলছড়ি উপজেলা বাড়িঘর গাছপাড়া ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ বিদ্যুৎ খুঁটির ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। বাতাসে তীব্রতায় শত শত ঘরবাড়ি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিনের চাল দুমড়ে মুচড়ে যায় । উপরে পড়ে অসংখ্য গাছপালা।
ক্ষতিগ্রস্ত এরশাদ আলী বলেন, আমার বাড়ি ঘরের কোন অস্তিত্ব নেই। সব হারিয়ে আমি এখন খোলা আকাশের নিচে বসে আছি। এখন থাকার মত কোন জায়গা নেই। কি করব ভেবে পাচ্ছি না ।
কামারজান ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য আসাদুজ্জামান বলেন, ঝড়ের তান্ডবে অনেক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ এলাকায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গণ উন্নয়ন নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী প্রধান এম আব্দুল সালাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। অপরদিকে সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের উপ-মহা ব্যবস্থাপক আব্দুল বারী বলেন, গত রাতের ঝড়ে উপজেলায় ১২ টি বিদ্যুৎ ক্ষতি ভেঙে পড়েছে। হেলে পড়েছে আরো চারটি খুঁটি। অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ স্থানে ছেড়ে গেছে তার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য মিটার। এর ফলে মেইন লাইন চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ক্ষতির পরিমাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট এলাকার সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানদের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে ফুলছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গতকাল রাতে ঝড়ের তান্ডবে এরেন্ডা বাড়ি ইউনিয়নেসহ চরাঅঞ্চলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ক্ষয়ক্ষতি পরিমান নিরূপণে কাজ চলছে। তালিকা প্রস্তুত হতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেয়া হবে।