সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪২ জনের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করে জেলা পুলিশ। এতে ৩৩ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয় এবং আরও ৪ জনকে রাখা হয় অপেক্ষমাণ তালিকায়। নিয়োগপ্রাপ্তদের বেশিরভাগই কৃষক, জেলে ও দিনমজুর পরিবারের সন্তান। স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগে চাকরি পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
চরফ্যাশনের বাসিন্দা মো. ইয়াকুব শরীফ বলেন, তার বাবা একজন কৃষক। পরিবারের আর্থিক অবস্থা দুর্বল হওয়ায় বহু কষ্টের মধ্য দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। এর আগে দুইবার পুলিশে চাকরির চেষ্টা করেও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তবে তৃতীয়বারের চেষ্টায় সফল হয়ে তিনি এখন অনেক খুশি। তার ভাষায়, মাত্র ১২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পাবো, এটা কখনও ভাবিনি।
আরেক চাকরিপ্রত্যাশী মো. জিদান জানান, তিনিও কয়েকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। চারদিকে পুলিশে চাকরি পেতে লাখ লাখ টাকা লাগে— এমন কথাও শুনেছেন। তাই এবার লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার পরও চাকরি পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ফলাফলে নিজের নাম শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন তিনি। কোনো ধরনের অর্থ বা তদবির ছাড়া মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার জানান, চলতি বছরের টিআরসি নিয়োগে জেলায় মোট ১ হাজার ৫৩৮ জন আবেদন করেছিলেন। শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষার সাতটি ধাপ শেষে ৪৬০ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। সেখান থেকে ৪২ জন উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরে চূড়ান্তভাবে ৩৩ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুরো নিয়োগ কার্যক্রম শতভাগ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচিতরা ভবিষ্যতে সততা, পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার সঙ্গে দেশের মানুষের সেবায় কাজ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।