হরমুজ প্রণালীতে অবরুদ্ধ ‘বাংলার জয়যাত্রা’: ৪ মাস ধরে ৩১ নাবিকের চরম উৎকণ্ঠা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|
২০২৬-০৫-১৫ ২২:১২
সিইও: সাজ্জাদ হোসেন
বাংলাদেশ অফিস: ইউরোপা টাওয়ার, ফ্ল্যাট ৩/বি, ৩৮৩/১/এফ বিটিভি সংলগ্ন, পূর্ব রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যুক্তরাজ্য অফিস: লেক্স হাউস, ১-৭ হেইনল্ট স্ট্রিট, ইলফোর্ড আইজি১ ৪ইএল, যুক্তরাজ্য।
ফোন : +৪৪ ৭৪৯৫ ৯২২৫৮২
© ২০২৬ | চ্যানেল ১৮ কর্তৃক সর্বসত্ব ® সংরক্ষিত | Powered by: channel18 IT
ইরান ও আমেরিকার মধ্যবর্তী যুদ্ধাবস্থায় বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ এখন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে গত চার মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্য উপসাগরে ৩১ জন ক্রুসহ অবরুদ্ধ হয়ে আছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। বর্তমানে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জটিল সমীকরণে জাহাজটি ও এর নাবিকদের দেশে ফেরা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।রেডিওতে প্রতিনিয়ত ভেসে আসছে ইরানি নৌবাহিনীর কঠোর সতর্কবার্তা—“সিকিউরিটি, সিকিউরিটি, সিকিউরিটি।” হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অপেক্ষায় থাকা জাহাজগুলোকে আইআরজিসি (IRGC)-নেভি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সামান্যতম নিয়ম লঙ্ঘন করলেই দেওয়া হবে ভয়াবহ জবাব। জাহাজের প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান সেই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে জানান, দুবাইয়ের জাবাল আলি পোর্টে অবস্থানকালে তাদের চোখের সামনেই একটি অয়েল টার্মিনালে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালানো হয়। হামলাটি লোডিং ও ডিসচার্জ প্ল্যান্টে সীমাবদ্ধ থাকলেও, মূল অয়েল ট্যাংকে আঘাত লাগলে আধা কিলোমিটার এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতো বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।হরমুজ প্রণালী থেকে বের হওয়ার অপেক্ষায় বর্তমানে ২,২৭৩টি জাহাজ আটকা পড়ে আছে। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করলেও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। বিএসসি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, তারা টোল দিয়ে জাহাজটি ছাড়িয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। তবে সমস্যা দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে—ইরানকে টোল দিলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার ভয় রয়েছে, আবার টোল না দিলে জাহাজ বের করার বিকল্প কোনো পথ নেই।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ওপর। রাশেদুল হাসান জানান, বিশেষ পরিস্থিতিতে দুই মাসের খাবারের জন্য তাদের ব্যয় করতে হয়েছে ২১ হাজার ডলার। পানির দাম বেড়েছে অভাবনীয় হারে; যে ২০০ টন পানির দাম আগে ছিল দেড় থেকে দুই হাজার ডলার, বর্তমানে তা কিনতে হচ্ছে ১১ হাজার ডলারে।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকেই পার হতে দিচ্ছে না ইরানি নৌবাহিনী। ফলস্বরূপ, অবরুদ্ধ জাহাজ ও ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিকের মুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক মহলে যোগাযোগ রক্ষা করলেও পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।