‘সরলা রাণী’ (ছদ্মনাম) নামের ওই নারী রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেলে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু হাসানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অভিযোগকারী নারী দিনাজপুর সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
অভিযোগে যা বলা হয়েছে
লিখিত অভিযোগে ওই নারী দাবি করেন, ২০২৩ সাল থেকে উত্তম কুমার রায়ের সঙ্গে তার পরিচয়। পরিচয়ের পর থেকেই উত্তম কুমার বিভিন্ন সময়ে তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একপর্যায়ে দিনাজপুরের একটি কালীমন্দিরে উত্তম কুমার তাকে বিয়ে করেছেন বলেও দাবি করেন ওই নারী। তবে পরবর্তীতে তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সময় মামলার ভয় দেখিয়ে উত্তম কুমার তাকে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করেছেন।
রামসাগরে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগকারী জানান, গত ২৫ আগস্ট উত্তম কুমার ও তিনি দিনাজপুরের রামসাগরে ঘুরতে গেলে কয়েকজন যুবক তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে চলে যায়। এরপর থেকেই উত্তম কুমার তার সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে চলছেন বলে দাবি করেন তিনি।
মোবাইল হারানোর ঘটনায় ওই নারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উত্তম কুমার দাবি করেছেন, তার মোবাইলটি ওই নারীর সঙ্গে রামসাগরে ঘুরতে গিয়ে হারায়নি।
অভিযোগ অস্বীকার উত্তম কুমারের
অভিযোগের বিষয়ে উত্তম কুমার রায় বলেন, ওই নারীর সঙ্গে তার কোনো ধরনের অনৈতিক সম্পর্ক নেই। ওই নারীর ব্যক্তিগত জীবনে বিভিন্ন সমস্যা থাকায় কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে মিলে তাকে পড়াশোনার বিষয়ে সহযোগিতা করতেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, একপর্যায়ে তাকে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় ওই নারী বিভিন্নভাবে তাকে হুমকি দিতে শুরু করেন। তার চাকরি খেয়ে ফেলা, বাসায় গিয়ে ঝামেলা করা এবং ধর্ষণ মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন উত্তম কুমার।
উত্তম কুমার আরও বলেন, বিষয়টি তিনি তার সহকর্মীদের জানালে তারা থানায় জিডি করার পরামর্শ দেন। তাদের পরামর্শে গত ২৮ আগস্ট তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।