প্রস্তাবিত নীতিমালায় মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছে। বাকি ৭ শতাংশ আসন কোটার জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
কোটার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। কোটা সুবিধা পেতে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র বা সনদ যাচাই করা হবে।
খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষাবর্ষে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের বছর এবং তার আগের দুই বছরে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। বিদেশি বোর্ডের সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। তবে তাদের সনদের সমমান নির্ধারণ করবে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর
প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে। প্রথম দফায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় প্রকাশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে আবেদন ও নির্বাচন বাতিল হয়ে যাবে। প্রথম মাইগ্রেশনের ফল ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় প্রকাশের কথা রয়েছে।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে।
বিভাগ নির্বাচনে থাকছে সুযোগ
প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—যেকোনো বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। তবে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা কেবল এই দুই বিভাগের যেকোনো একটিতে আবেদন করতে পারবেন।
এ ছাড়া যেকোনো বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্যবিজ্ঞান ও সংগীতে আবেদনের সুযোগ পাবেন। মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও সমমান উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্যও বিভিন্ন বিভাগে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
আবেদনের ফি ২২০ টাকা
খসড়া নীতিমালায় একাদশে ভর্তির অনলাইন আবেদনের ফি ২২০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় শিক্ষার্থীপ্রতি মোট ৩৪০ টাকা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন, ক্রীড়া, রোভার বা রেঞ্জার, রেড ক্রিসেন্ট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিএনসিসি এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা-সংক্রান্ত বিভিন্ন ফি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এ ছাড়া কলেজের ধরন, অবস্থান ও শিক্ষার মাধ্যম অনুযায়ী সেশন চার্জ, ভর্তি ফি ও উন্নয়ন ফি আলাদাভাবে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির এই নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের আগে এতে পরিবর্তন বা সংশোধন হতে পারে।