গত ১০ আগস্ট রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মতিহার আমলি আদালতে বাদী হয়ে মামলাটি করেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দীন আম্মার।
মামলায় নামীয় আসামিরা হলেন— রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস, সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ও মামুন মিয়া, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজুল ইসলাম নয়ন এবং ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আজহারুল ইসলাম। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই দুপুর পৌনে ৩টার দিকে রাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় জিএসের ২০২ নম্বর কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় সালাহউদ্দীন আম্মার দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় আসামিরা লোহার রড, বাঁশ ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা জোরপূর্বক কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, কার্যালয়ে ঢুকে আসামিরা সালাহউদ্দীন আম্মারের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন। এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয়। একই সঙ্গে কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
এ সময় হামলার প্রতিবাদ করতে গেলে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব এবং মেহেদী নামের আরেক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে আসামি আনাস লোহার রড দিয়ে নাজমুস সাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। আঘাত ঠেকাতে গেলে তাঁর ডান হাতে রক্তাক্ত জখম হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, নাজমুস সাকিবকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আসামি মাহমুদ হাসান মাহিন মেহেদীর বাম কানে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনিও রক্তাক্ত জখম হন।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে রাকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির বলেন, আমি যতটুকু জানি, মামলাটি আদালত গ্রহণ করেছে। বর্তমানে এটি পিবিআইয়ের তদন্তাধীন। পিবিআই তদন্ত শেষ করার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে মামলার বিষয়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দীন আম্মারের বক্তব্যে ভিন্ন সুর পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, আমার সম্পাদকদের ওপর হামলা হয়েছে। এটা আমার কাছে মনে হয়, জাস্ট ফর কনসার্ন আর কিছুই না। এটা নিয়ে পরবর্তীতে একটা গেম খেলবে সরকার। এজন্য আমার সম্পাদকদের ইনভলভ করে একটা মামলা করছি। এটা শুধু কনসার্ন করে রাখা, এছাড়া আর কিছু না।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।