ফ্রান্সের একাধিক সংবাদমাধ্যমও জানিয়েছে, দেশমের স্থলাভিষিক্ত হতে মৌখিকভাবে সম্মতি দিয়েছেন জিদান। আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের পর তার চুক্তি শুরু হবে।
জিদানের সঙ্গে ফেডারেশনের আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে এবং এখন তার কোচিং স্টাফের গঠন নিয়ে চূড়ান্ত কথাবার্তা চলছে।
১৯৯৮ সালে ঘরের মাঠে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর থেকে জিদানের ফ্রান্স কোচ হওয়ার সম্ভাবনা বহু বছর ধরে আলোচনার বিষয় হয়ে আসছে। বিশেষ করে ২০২১ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্ব ছাড়ার পর তার ফ্রান্সের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
রিয়াল ছাড়ার পর ৫৩ বছর বয়সী জিদানের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের কোচ হওয়ার গুঞ্জনও ছিল। এবার বিশ্বকাপের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র কোচের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সব প্রস্তাবই এড়িয়ে গেছেন। ফলে কোচিং থেকে তার দীর্ঘ পাঁচ বছরের বিরতি এখনও কাটেনি।
ইএসপিএন জানিয়েছে, ফ্রান্স কোচ হিসেবে চুক্তিতে সই করার আগে শেষ মুহূর্তের কিছু খুঁটিনাটি বিষয় মিলিয়ে দেখা বাকি। বিশেষ করে তার কোচিং স্টাফের সদস্য সংখ্যা এবং দলের পরিধি নিয়েই মূলত আলোচনা চলছে।
গত রোববার ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লা ফিগারো’-তে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন, দেশমের উত্তরসূরি কে হতে যাচ্ছেন তা তিনি জানেন। সরাসরি নাম না জানালেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটি দেশমের ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ সতীর্থ জিদান।
ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জিদানকে কোচ করলে আর্থিকভাবে কতটা লাভবান হওয়া যাবে, তা নিয়ে পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে এফএফএফ।
জিদান রিয়ালের সাবেক মিডফিল্ডার এবং কোচ হিসেবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। ২০১৬-২০১৮ প্রথম মেয়াদে এবং ২০১৯-২০২১ দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রিয়ালকে দুবার লা লিগা এবং টানা তিনবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় এনে দিয়েছেন।
জাতীয় দলে ফ্রান্সে ১৯৯৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে ১০৮ ম্যাচ খেলেছেন, করেছেন ৩১ গোল। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের পাশাপাশি ২০০০ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন জিদান।