মনিতে চর্বি বা প্লাক জমে রক্তনালি সরু হয়ে গেলে বাড়তে পারে হৃদ্রোগের ঝুঁকি। বিশেষ করে করোনারি ধমনি সংকুচিত বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে হৃৎপিণ্ডে রক্ত ও অক্সিজেন চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে হৃদ্স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন কারণে রক্তনালির ক্ষতি হতে পারে। তাই নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেও নজর দেওয়া জরুরি।
বাঁধাকপি, ফুলকপি ও ব্রকোলি
বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি ও ব্রাসেলস স্প্রাউটের মতো সবজিতে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এসব সবজি রাখা যেতে পারে।
আখরোট
আখরোটে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড। স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে আখরোট খাওয়া কোলেস্টেরল ও হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
তৈলাক্ত মাছ
ইলিশসহ বিভিন্ন তৈলাক্ত মাছে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। পরিমিত পরিমাণে এসব মাছ খাওয়া রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।
বিট
বিটে থাকা নাইট্রেট শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে ভূমিকা রাখে, যা রক্তনালির প্রসারণে সহায়তা করতে পারে। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এর ভূমিকা থাকতে পারে।
ডার্ক চকোলেট
কোকো বেশি থাকা ডার্ক চকোলেটে ফ্ল্যাভোনয়েডসহ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তবে এতে ক্যালোরি ও চিনি থাকতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এসব খাবার ধমনিতে জমে থাকা ব্লকেজ সরিয়ে দেয়—এমন নিশ্চয়তা নেই। হৃদ্রোগের ঝুঁকি থাকলে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষ করে ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ বা উচ্চ রক্তচাপের জটিলতা থাকলে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সবশেষে, হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অতিরিক্ত লবণ, চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি কমিয়ে সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই গুরুত্বপূর্ণ।