এ ঘটনায় এনসিপির এক নেতা বাদি হয়ে দলের এক কেন্দ্রীয় নেতাসহ ২০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
রবিবার সকালে তাকে ঢাকার আদালতে পাঠানো হয় বলে জানান ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান।
এর আগে, গতকাল শনিবার রাতে ধামরাই থানায় এস এম শামিউর রহমান নামে এক ব্যক্তি বাদি হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার নাজমুল হক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ধামরাই উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী।
মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- ইসরাফিল ইসলাম খোকন (৩৪), নাজমুল হক (২৮), সরোয়ার জাহান সিদ্দিক (২২), সামিউল ইসলাম লিমন (২২), আসাদুল ইসলাম মুকুল (৩২), মেহেদী হাসান হৃদয় (২৬), আ্যাড. শাওন (৩০), আমানউল্লাহ শিব্বির (২৬), রনি আহমেদ (২৬), মুফতি শহীদুল্লাহ্ শুয়াইব (৩৩), জুলকার নাইন (৪২), আশিকুর রহমান (২৫), নাসিরুদ্দিন লিটন (২৫), এস পি জাহিদ (২৪), আরাফাত আমিন বর্ষন (২৪) ও অজ্ঞাত অন্তত পাঁচজনসহ মোট ২০ জন।
এরমধ্যে আসাদুল ইসলাম মুকুল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও অন্যান্যরা ধামরাই উপজেলার নেতাকর্মী। তারা ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল বিকেলের দিকে ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির ঢাকা জেলা উত্তর কমিটির আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিং ও অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়। এতে এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তর কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও চব্বিশের শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হন। একপর্যায়ে ৫ নম্বর আসামি আসাদুল ইসলাম মুকুল, ৭ নম্বর আসামি আ্যাড. শাওন ও আরও এক নেতার হুকুমে ১ নম্বর আসামির নেতৃত্বে ১-৪, ৬-৯, ১১ ও ১৩ নম্বর আসামিসহ অন্তত ২০ জন হাতুড়ি, কাঠের টুকরা, ইট ও রড দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে হামলা করে। একজন শহীদের মায়ের ওপর হামলা করলে তিনি পড়ে যান, তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ২ নম্বর আসামি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন, অন্যান্যরা টেবিল, চেয়ার, ভাংচুর করে ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। এ সময় এমদাদ নামে একজনকে তুলে নিয়ে মারধর করতে থাকে। তার মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া মামলার বাদি এস এম শামিউর রহমানকেও মারধর করে তাকে রক্তাক্ত জখম করে। তার স্বর্ণের আঙটি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে পুলিশ এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় আজাহারুল ইসলাম, মফিদুল ইসলামসহ ১৫ জন আহত হন, এরমধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ আল মামুন বলেন, মামলার পরিপ্রেক্ষিত অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।