হাই কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, সততা ও সঠিক তথ্য বজায় না রাখলে আবেদনকারীদের কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
ব্রিটিশ হাই কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কেউ যদি ব্রিটিশ ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে জাল কাগজপত্র বা মিথ্যা তথ্য জমা দেন, তবে তাকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে। এই নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুতর এবং এটি টুরিস্ট, স্টুডেন্ট, ওয়ার্ক ও ফ্যামিলি ভিসাসহ প্রায় সব ক্যাটাগরির ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। মূলত ভিসা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গ্যারান্টিড ভিসা’ বা ‘সহজে ইউকে যাওয়ার সুযোগ’ সংক্রান্ত নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন ও প্রতারণামূলক অফার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্রিটিশ হাই কমিশন বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে সতর্কতামূলক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। কমিশন জানায়, ওইসব বিজ্ঞাপনে ভুয়া তথ্য দিয়ে আবেদনকারীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে, যা বিশ্বাস করে প্রতারিত হলে শেষ পর্যন্ত আবেদনকারীর ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং আইনি জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষ করে ‘শেম ম্যারেজ’ বা কেবল ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো ভুয়া বিয়ের ঘটনাগুলোর ওপর কড়া নজরদারি বাড়িয়েছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, কেবল বৈধ ও বাস্তবসম্মত দাম্পত্য সম্পর্কই ভিসার জন্য স্বীকৃতি পায়। আবেদনকারী যদি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন যে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কটি প্রকৃত, তবে তা গুরুতর প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে। এমন প্রমাণিত হলে ভিসা বাতিল হওয়ার পাশাপাশি আবেদনকারীকে আইনানুগ কঠিন ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাকে চিরতরে ব্যাহত করবে।
এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ হাই কমিশনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা প্রতারণার যেকোনো চিহ্ন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করেন। ভুয়া দলিল এবং জাল বিয়ের মাধ্যমে সিস্টেমকে ঠকানোর চেষ্টা করলে তার মারাত্মক পরিণতি হবে, যার মধ্যে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদে নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। তাই যেকোনো ভিসা আবেদনের আগে দাখিলকৃত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন।
ভিসা সংক্রান্ত সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় প্রশ্নোত্তর এবং সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে সবসময় মধ্যস্থতাকারী বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চটকদার বিজ্ঞাপন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো তথ্যের জন্য সবসময় নির্ভরযোগ্য ও অফিশিয়াল সরকারি ওয়েবসাইট (gov.uk/browse/visas-immigration) ব্যবহার করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে ব্রিটিশ হাই কমিশন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত বিদেশ যাওয়ার আকুলতায় ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে, নিজে সরকারি নিয়ম যাচাই করা এবং প্রয়োজনে অনুমোদিত পেশাদার আইনি পরামর্শদাতার সহায়তা নেওয়াই একমাত্র নিরাপদ পথ।