বাংলাদেশে ফুটবল মানেই যে এক অন্যরকম আবেগ, আর সেই আবেগের সিংহাসনজুড়ে রয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। মূলত এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল মাঠে নামলেই এ দেশে শুরু হয় বিশ্বকাপের আসল আমেজ।
জানা গেছে, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৪ ও ১৬ জুন। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এখন অধীর আগ্রহে উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছেন। বাংলাদেশে ফুটবলকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের মধ্যকার রসায়নটা বড্ড চেনা, কিন্তু চিরকালই দারুণ উপভোগ্য। নিয়ম অনুযায়ী, ব্রাজিলের খেলার দিন মাঠের প্রতিপক্ষের চেয়েও গ্যালারি কিংবা ড্রয়িংরুমে বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াবে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। তারা ব্রাজিলের অপনেন্টের পক্ষ নিয়ে কোমর বেঁধে নামবে। আবার ঠিক একইভাবে, আর্জেন্টিনার খেলার দিন তাদের প্রতিপক্ষের সমর্থনে গলা মেলাবে ব্রাজিলসহ অন্য সব দলের সমর্থকেরা। মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও যেন ঘরের ভেতরের এই চিরচেনা বাকযুদ্ধ, চায়ের কাপের ঝড় আর মনস্তাত্ত্বিক লড়াই জমে উঠবে বেশি।
বিশ্বকাপের এই আকাশচুম্বী উন্মাদনার আঁচ ইতোমধ্যেই টের পাওয়া যাচ্ছে রাজপথ থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। গত রাতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখানো হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। সেখানে খেলা দেখতে হাজির হয়েছিল হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী দর্শক। গোল কিংবা ভালো পাসের একেকটি মুহূর্তে দর্শকদের উল্লাস আর করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল পুরো ক্যাম্পাস।
খেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় এখন প্রিয় দলের জার্সি কেনা এবং বাড়ির ছাদে, ব্যালকনিতে কিংবা দেয়ালে প্রিয় দেশের বিশালাকার পতাকা ওড়ানোর ধুম লেগে গেছে। টেইলার্স থেকে শুরু করে স্পোর্টসের দোকানগুলোতে এখন দম ফেলার ফুসরত নেই কর্মীদের। সব মিলিয়ে, বরাবরের মতোই এবারও এক উৎসবমুখর এবং অন্যরকম আলোড়নে জমিয়ে উঠবে ফুটবল বিশ্বকাপ। এখন শুধু অপেক্ষা প্রিয় দলগুলোর মাঠে নামার এবং মাঠের সেই লড়াইকে নিজেদের করে উদযাপন করার।