ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার কোনো সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘তার দেশে ফিরে খেলার কোনো সুযোগ নেই।’
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা দেশ ছাড়েন। ওই সময় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন সাকিব। সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর তাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
আমিনুল হকের ভাষ্য, একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে সাকিবের যে গ্রহণযোগ্যতা ছিল, রাজনৈতিক পরিচয় বেছে নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে।
তিনি বলেন, ‘একজন ক্রিকেটার হিসেবে যে অবস্থানে তিনি ছিলেন, সেখান থেকে সরে গিয়ে যখন রাজনৈতিক পরিচয় বেছে নিয়েছেন, তখন আমার মনে হয় না তার দেশে ফিরে আসার কোনো সুযোগ আছে। দেশে ফিরলে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এতদিন সাকিবকে মূলত একজন ক্রিকেটার হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের পর সেই অবস্থান বদলে গেছে।
তিনি বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি এবং অন্য সবাই তার বিষয়টি নিয়ে অনেক সহনশীল ছিলাম। কিন্তু এখন তার ফেরার জন্য কোনো ব্যবস্থা করার সুযোগ আছে বলে মনে করি না। তিনি স্বৈরাচারদের মঞ্চে উঠে তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছেন। তাই তার দেশে ফিরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার কোনো সুযোগ নেই।’
এর আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান বলেছিলেন, সরকার তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে তিনি দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে দেশের মাটিতে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলা এবং ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে খেলার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে সরকারের সর্বশেষ অবস্থানের পর সাকিবের দেশে ফিরে বিদায়ী সিরিজ খেলার সেই আশা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।