তবে শেষ রক্ষা হয়নি, তার স্ত্রীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা কিছু ছবিই শেষ পর্যন্ত ফাঁস করে দিয়েছে এই সুনিপুণ প্রতারণার কাহিনী। ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে অন্তত পাঁচবার বেনিফিটের জন্য আবেদন করে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস (DWP) থেকে প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড হাতিয়ে নেন তিনি। প্রতিবারই নিজের কোনো সঞ্চয় বা সম্পত্তি নেই বলে দাবি করলেও তদন্তে উঠে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই তদন্তে তদন্তকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেরার্ডের বেশ কিছু বিলাসবহুল মুহূর্তের ছবি খুঁজে পান। সেখানে তাকে লন্ডনের অভিজাত রিটস হোটেলে সময় কাটাতে, রয়্যাল অ্যাসকট অনুষ্ঠানে অংশ নিতে, ব্যক্তিগত জেটে ভ্রমণ করতে এবং জাকুজিতে বসে পানীয় উপভোগ করতে দেখা যায়। শুধু তাই নয়, এই বেনিফিট নেওয়ার সময়েই তিনি প্রায় ৪ লাখ পাউন্ড ব্যয় করেন নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপনে। এছাড়া ফ্রান্সের বার্গান্ডি অঞ্চলে একটি হলিডে হোম এবং দুবাইয়ে তার নামে বিপুল সম্পত্তির সন্ধান পায় কর্তৃপক্ষ।
গিল্ডফোর্ড ক্রাউন কোর্টে এই মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটর এডওয়ার্ড এলটন জানান, শেরার্ড শুরু থেকেই অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তার সম্পত্তির তথ্য গোপন করেছেন এবং বিভিন্ন ফর্ম ও সাক্ষাৎকারে বারবার মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। বিচারক রবার্ট ফ্রেজার এই অপরাধকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করে বলেন, যারা অসদুপায়ে সরকারি সহায়তা ব্যবস্থার অপব্যবহার করে, তারা মূলত প্রকৃত অভাবী মানুষের জন্য বরাদ্দ অর্থের অপচয় ঘটায়। তবে এত বড় জালিয়াতির পরেও শেরার্ডকে শেষ পর্যন্ত কারাগারে যেতে হয়নি। আদালতের বাইরে তিনি নিজের সাফাইতে দাবি করেন, সেই সময়ে তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন এবং তার স্ত্রীকে দুবাইয়ে অপহরণ করার কারণে সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতি তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকারি অর্থের অপচয় ও বেনিফিট জালিয়াতি রোধে আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। DWP ইতিমধ্যে নতুন 'পাবলিক অথরিটিজ বিল' কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা সরকারি অর্থ চুরি, ভুলবশত অতিরিক্ত অর্থ প্রদান এবং জালিয়াতির ঘটনা দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই জালিয়াতির ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যেও বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে। লণ্ডন, বার্মিংহাম ও ম্যানচেস্টারের স্থানীয় কমিউনিটির মানুষেরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলছেন, করদাতাদের অর্থ দিয়ে তৈরি এই বেনিফিট ব্যবস্থা কেবল প্রকৃত অভাবীদের জন্যই থাকা উচিত এবং যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে এর অপব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।