সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি "অপারেশন রিস্টোরিং জাস্টিস" নামে একটি নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই নতুন পরিকল্পনার আওতায় ব্রিটেন থেকে ১০ লক্ষাধিক অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এই রাজনৈতিক নেতা। ফারাজ দাবি করেন, বর্তমান অভ্যন্তরীণ আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামো অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে তিনি ইউরোপিয়ান কনভেনশন অন হিউম্যান রাইটস (ECHR) থেকে যুক্তরাজ্যকে বের করে আনা, হিউম্যান রাইটস অ্যাক্ট ১৯৯৮ বাতিল করা এবং আন্তর্জাতিক শরণার্থী কনভেনশন থেকে অব্যাহতি নেওয়ার মতো বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব করেছেন। এর পাশাপাশি 'ইল্লিগাল মাইগ্রেশন অ্যাক্ট' নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি আইন পাশ করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ফারাজের এই নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, অবৈধ উপায়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারীদের জন্য স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো ধরনের আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য সন্দেহভাজনদের অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখার বিশেষ ক্ষমতা চালু এবং একবার বহিষ্কারের পর কেউ যদি পুনরায় দেশে প্রবেশ করে, তবে তার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে 'ইউকে ডিপোর্টেশন কমান্ড' নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি আধুনিক সংস্থা গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও উন্নত নজরদারি ব্যবস্থার সমন্বয়ে কাজ করবে। এছাড়া আগামী ১৮ মাসের মধ্যে অন্তত ২৪ হাজার মানুষের জন্য নতুন ডিটেনশন বা আটক সুবিধা তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন ফারাজ।
ঘোষিত এই পরিকল্পনার একটি বিশেষ অংশ ইতিমধ্যে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাইজেল ফারাজ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেসব নির্বাচনী এলাকায় তাঁর দল রিফর্ম পার্টি জয়ী হবে, সেখানে কোনো ধরনের ডিটেনশন সেন্টার নির্মাণ করা হবে না। এর বিপরীতে যেসব এলাকায় গ্রিন পার্টি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, সেসব অঞ্চলকে 'ইমিগ্রেশন রিমুভাল সেন্টার' স্থাপনের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি পাকিস্তান, সোমালিয়া, ইরিত্রিয়া, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও সুদানের মতো দেশগুলো যাতে তাদের নাগরিকদের দ্রুত ফেরত নিতে বাধ্য হয়, সেজন্য ওই দেশগুলোর ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দিয়েছেন ফারাজ। তাঁর দাবি, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই দেশগুলো থেকে এসেছে।
এই রাজনৈতিক নেতা আরও অভিযোগ করেছেন যে, কিছু সরকারি কর্মকর্তা সম্পূর্ণ জেনে-শুনে বিদেশী অপরাধীদের যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি দিয়েছেন। এ ধরনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি মামলা দায়ের এবং তাদের রাষ্ট্রীয় পেনশন সুবিধা বাতিলের দাবি জানান তিনি। ফারাজের এমন চরমপন্থী বক্তব্যের পর দেশের মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন অধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং বিশ্বজনীন শরণার্থী সুরক্ষা নীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তবে ফারাজের সমর্থকরা যুক্তি দিচ্ছেন যে, যুক্তরাজ্যের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং ভেঙে পড়া অভিবাসন ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করতে এই মুহূর্তে এমন কঠোর পদক্ষেপেরই প্রয়োজন। যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মূলত অভিবাসন ইস্যুকে হাতিয়ার করে জনসমর্থন নিজেদের পক্ষে টানার একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল নিয়েছে রিফর্ম ইউকে।