নতুন এই এআই সফটওয়্যার সীমান্তে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে একজন ব্যক্তির সম্ভাব্য বয়স নির্ধারণ করবে। সরকারের দাবি, অনেক প্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী শিশু পরিচয় দিয়ে অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা সনাক্ত করতে এই প্রযুক্তি ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে অভিভাবকহীন শিশু অভিবাসীদের স্থানীয় কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে রাখা হয় এবং তারা বিশেষ আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা পেয়ে থাকে। ফলে কেউ শিশু দাবি করলে তাকে অতিরিক্ত সুবিধা ও দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত পূর্ববর্তী এক বছরে নিজেদের শিশু দাবি করা ৬ হাজার ৪০০-এর বেশি অভিবাসীর বয়স যাচাই করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশই পরে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে সনাক্ত হন। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি হাইলা ভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'আখতার কম্পিউটার্স লিমিটেড'-কে ৩ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২২ হাজার পাউন্ড।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও আশ্রয় বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস জানিয়েছেন, অনেক প্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী মিথ্যা বয়স দাবি করে শিশুদের জন্য বরাদ্দ সহায়তা ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে, যা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। আগামী বছর ডোবারের 'ওয়েস্টার্ন জেট ফয়েল' প্রসেসিং সেন্টারে বাস্তব আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর এই প্রযুক্তির প্রথম পরীক্ষা চালানো হবে। বর্তমানে সীমান্ত কর্মকর্তারা নথিপত্র, চেহারা ও আচরণ দেখে বয়স নির্ধারণ করলেও নতুন এই প্রযুক্তি তাদের একটি শক্তিশালী সহায়ক টুল হিসেবে কাজ করবে।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে। 'হিউম্যান রাইটস ওয়াচ' একে অমানবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে বলেছে, অপরীক্ষিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিশু শরণার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। পাশাপাশি সামাজিক কর্মীদের সংগঠন 'ব্যাসউ' (BASW) সতর্ক করে জানিয়েছে, বয়স নির্ধারণ একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া এবং এআই-এর ভুল সিদ্ধান্তের কারণে প্রকৃত শিশুরা রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
হোম অফিস অবশ্য আশ্বস্ত করেছে যে, এই প্রযুক্তিটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও লিঙ্গের মানুষের ছবির ওপর সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো এটি এককভাবে ব্যবহার করা হয়নি। এই বিষয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। লন্ডনের এক বাসিন্দা জানান, যারা প্রকৃত শিশু তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত এবং জালিয়াতি ঠেকাতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া যৌক্তিক। অন্যদিকে ম্যানচেস্টারের এক বাংলাদেশি অভিভাবক মন্তব্য করেন, প্রযুক্তির ব্যবহার ভালো হলেও এর কোনো ত্রুটির কারণে যেন কোনো প্রকৃত শিশু ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।