অন্যদিকে, স্থানীয় ব্রিটিশ নাগরিকদের সামগ্রিক জন্মহার নাটকীয়ভাবে কমে গত প্রায় পাঁচ দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস)-এর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে ৪০.২ শতাংশেরই অন্তত একজন অভিভাবক বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৩৯.৫ শতাংশ এবং ২০০৮ সালে ছিল ৩০.১ শতাংশ, যা দেশটির জনসংখ্যাগত কাঠামোর এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
ওএনএস-এর বার্ষিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মোট ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৬টি শিশুর জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার শিশুর অন্তত একজন অভিভাবক অভিবাসী। যুক্তরাজ্যে বিদেশে জন্ম নেওয়া মায়েদের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত এবং এর পরেই অবস্থান করছে পাকিস্তান। শীর্ষ এই দেশগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্মহারের দিক থেকে অন্যতম প্রধান অবস্থানে রয়েছে। জনমিতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, ঘানা ও আফগানিস্তান থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ যুক্তরাজ্যে অভিবাসন করেছেন এবং মূলত এসব সম্প্রদায়ের পরিবারেই শিশু জন্মের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
বিপরীত চিত্রে দেখা গেছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে সামগ্রিক জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়ে ১৯৭৭ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের মোট জন্মসংখ্যা ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৬৭৭ থেকে কমে গত বছর দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৬-এ, যা প্রায় ১.৬ শতাংশ হ্রাস। শুধু তাই নয়, বর্তমানে দেশটিতে প্রতি নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার কমে দাঁড়িয়েছে ১.৩৯-এ, যা ১৯৩০-এর দশক থেকে রেকর্ড রাখা শুরু করার পর ইতিহাসে সর্বনিম্ন। জনসংখ্যাবিদদের মতে, কোনো দেশে অভিবাসন ছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতে এই প্রতিস্থাপন হার অন্তত ২.১ হওয়া প্রয়োজন, যা বর্তমান ব্রিটেনের হারের চেয়ে অনেক বেশি।
এই জনমিতিক পরিবর্তনের ফলে ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। জন্মহার এভাবে কমতে থাকলে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত কমে যাবে এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস), পেনশন ও সামাজিক কল্যাণ খাতে সরকারি ব্যয় ও করের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হবে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্রিটেনে কর্মক্ষম জনশক্তির জোগান সচল রাখতে এবং ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর নতুন প্রজন্ম দেশটির শ্রমবাজার ও অর্থনীতিতে এক অপরিহার্য ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে।