সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে এয়ারলাইনটির যুক্তরাজ্য শাখার প্রধান ইওভোনি মর্নিহাম এই জরুরি আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, নতুন নিয়মের কারণে বিমানবন্দরগুলোতে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে অনেক যাত্রীরই নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যাদের কানেক্টিং ফ্লাইট রয়েছে, তাদের আরও বাড়তি সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরগুলোতে নতুন ‘এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম’ (EES) চালু করার পরই মূলত এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বহির্ভূত দেশের নাগরিকদের ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর বায়োমেট্রিক পরীক্ষা, আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) এবং ছবি তোলার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় মেশিনের পাশাপাশি কিছু কিছু ক্ষেত্রে ম্যানুয়ালি সম্পন্ন করার কারণে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সম্প্রতি ব্যাংক হলিডের ছুটির কারণে এই জটলা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এমনকি গত মাসে রোম থেকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি ফ্লাইটের বেশ কয়েকজন যাত্রী এই বাড়তি চেকিংয়ের গ্যাঁড়াকলে পড়ে সময়মতো বিমানে চড়তে ব্যর্থ হন।
সামনে গ্রীষ্মকালীন ছুটি (সামার হলিডে) থাকায় পর্যটকদের চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন এবং গ্রিসের মতো জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোতে যারা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ব্রিটিশ পর্যটকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে গ্রিস সরকার। আসন্ন সামার হলিডের চাপ ও যাত্রীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে গ্রিস কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য এই জটিল ‘এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম’ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর বাইরে ইউরোপের অন্যান্য দেশে ভ্রমণকারী সকল ব্রিটিশ নাগরিকদের যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে যাত্রার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।