বিশেষ করে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর ও তরুণদের মধ্যে নাইফ ক্রাইম (ছুরি দিয়ে অপরাধ), ডাকাতি, শারীরিক হামলা এবং মাদক সংক্রান্ত অপরাধের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সরকারি তথ্য ও বিশ্লেষকদের মতে, এই অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ কাজ করছে। কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘস্থায়ী বিচ্ছিন্নতা, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং ক্রমবর্ধমান সামাজিক বৈষম্য কিশোরদের বিপথগামী হওয়ার পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক অনলাইন প্রভাব, গ্যাং কালচার বা কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার এবং অর্থনৈতিক দারিদ্র্যও এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। ফলে অনেক এলাকায় এটি এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং একটি ধারাবাহিক সামাজিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে—যা পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে একযোগে ভাবিয়ে তুলছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং অপরাধের জগতে শিশুদের জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ব্রিটিশ সরকার। 'ইউথ জাস্টিস হোয়াইট পেপার'-এর নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সন্তানের অপরাধের জন্য এখন থেকে বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকদেরও জবাবদিহিতার আওতায় এনে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি করা হতে পারে। ব্রিটিশ জাস্টিস সেক্রেটারি ডেভিড লেমি এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, সরকার অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই প্রাথমিক স্তরে হস্তক্ষেপ করতে চায়।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদ্যমান 'প্যারেন্টিং অর্ডার' বা অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত আইনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এই অর্ডারের মাধ্যমে আদালত অভিযুক্ত কিশোরদের অভিভাবকদের বাধ্যতামূলক কাউন্সেলিং বা আচরণ সংশোধনমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। নতুন নিয়মে এই আদেশ অমান্য করলে অভিভাবকদের কঠোর শাস্তির পাশাপাশি বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হবে। মূলত পরিবারিক পর্যায় থেকে তদারকি বাড়াতেই আইনের এই কঠোর সংস্কার আনা হচ্ছে।