ছুটির এই সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ডোভার বন্দর ব্যবহার করায় সেখানে তীব্র যানজট ও দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতেই ফরাসি প্রশাসন এই জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি ছুটির দিনগুলোতে কেবল ডোভার বন্দর দিয়েই প্রায় ১৫ হাজার যানবাহন পারাপার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত এই চাপের কারণে সাধারণ যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যার স্থায়িত্ব ক্ষেত্রবিশেষে চার ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় স্পর্শ করেছে। চরম এই ভোগান্তি নিরসনে এবং যাত্রী সাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতেই ফ্রান্সের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত এন্ট্রি-এক্সিট বা প্রবেশ ও বহির্গমন সংক্রান্ত কড়াকড়ি সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হলো।
মূলত গত মাস থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অ-নাগরিকদের জন্য ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন বায়োমেট্রিক 'এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম' চালু করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের আঙ্গুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) এবং ছবি তোলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নতুন এই পদ্ধতিটির প্রথমিক ধাপে পরিচিতি ও যাচাইকরণের জটিলতার কারণেই মূলত ডোভার বন্দরে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যাত্রীদের আটকে থাকতে হচ্ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত এই কড়াকড়ি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।
এদিকে আসন্ন গ্রীষ্মকালীন ছুটিকে (সামার হলিডে) সামনে রেখে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ তাদের এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেমে শিথিলতা এনেছে। যার মধ্যে অন্যতম পর্যটন গন্তব্য গ্রিস ইতিমধ্যে এই সিস্টেম সাময়িকভাবে বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে ইতালি এবং পর্তুগাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রীষ্মের ছুটিতে তাদের দেশে পর্যটকদের ব্যাপক চাপ থাকা সত্ত্বেও তারা এই বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ রাখবে।