বৃহস্পতিবার কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশে অযথা বিলম্ব করা হচ্ছে। নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা সম্পন্ন হয়নি।
শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্য তাদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে নেন এবং তাৎক্ষণিক তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব আইয়ুব আলীকে তলব করেন। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং রিপোর্ট প্রস্তুতের কাজ চলছে।
উপাচার্য আগামী ৭ মে অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ভুক্তভোগী ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছেন। পাশাপাশি তদন্ত প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা এবং পেনড্রাইভে ভাইরাস বা তথ্য হারানোর মতো অজুহাত দেখিয়ে তদন্ত বিলম্বিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
ডাকসুর পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে তদন্ত কমিটিগুলো প্রায়ই সময়ক্ষেপণ করে। এরশাদ হালিম ইস্যুতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। পুনরায় বিলম্ব হলে শিক্ষার্থীরাই পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবে।
ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের ভিপি খন্দকার আবু নাঈম বলেন, “সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তদন্তে গড়িমসি উদ্বেগজনক। এর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা মনে করছে। দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী অভীক চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, “কোর্ট থেকে শুরু করে তদন্ত কমিটির বৈঠকেও অভিযুক্তের পক্ষ থেকে আমাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তথাকথিত ‘ভাইরাসে’ তথ্য মুছে যাওয়ার অজুহাত দিয়ে কি কাউকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে?”
কর্মসূচিতে রসায়ন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সংহতি জানাতে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, জগন্নাথ হল সংসদের জিএস সুদীপ্ত প্রামাণিকসহ অন্যান্য ছাত্রনেতারা।