আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এমন কিছু খাবার বেছে নিতে হবে যা প্রকৃতিগতভাবে শীতল। এসি ঘর নয়, বরং আপনার রান্নাঘরে থাকা সাধারণ কিছু খাবারের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে শরীর ঠান্ডা রাখার আসল চাবিকাঠি।
আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, তপ্ত রোদে প্রাণ ওষ্ঠাগত সবার। এই অবস্থায় বাজারের কোমল পানীয় বা আইসক্রিম খেয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, শরীরের ভেতরের ‘পিত্ত’ কিন্তু ঠান্ডা হচ্ছে না। আয়ুর্বেদ বলছে, রোদের তেজ থেকে বাঁচতে কেবল এসি ঘর নয়, নজর দিতে হবে খাবারেও।
এমনই কিছু খাবারের বিষয়ে আলোচনা করা হলো…
শসা ও তরমুজ
তালিকায় প্রথমেই রাখা হয়েছে শসা ও তরমুজকে। গরমে শরীরের পানিশূন্যতা রুখতে এদের তুলনা পাওয়া কষ্টকর। শসায় থাকা জলীয় উপাদান শরীরকে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখে। অন্যদিকে, তরমুজ কেবল তৃষ্ণা মেটায় না, বরং রোদে পোড়া ত্বকের জেল্লা ফেরাতেও সাহায্য করে। বিকেলের নাস্তায় এখন এগুলো রাখা জরুরি।
ডাব বা নারিকেলের পানি
ভ্যাপসা গরমে ডাব বা নারিকেলের পানি যেন অমৃত। এর মধ্যে থাকা ইলেকট্রোলাইট শরীরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে। আয়ুর্বেদ মতে, ডাবের পানি কেবল পিপাসা মেটায় না, এটি লিভার ও কিডনির কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরকে বিষমুক্ত বা ডিটক্স করতে দারুণ কার্যকর। প্রতিদিন সকালে একটি ডাব শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
টক দই বা ঘোল
টক দই বা ঘোল এই সময়ের মহৌষধ। তবে সাবধান, খুব বেশি চিনি দিয়ে মিষ্টি খাওয়ার চেয়ে বিটলবণ ও জিরা গুঁড়া মেশানো পাতলা ঘোল অনেক বেশি উপকারী। এটি হজমশক্তি বাড়ায় এবং পেট ঠান্ডা রাখে। দুপুরের ভাতের সাথে সামান্য দই রাখলে পিত্তের প্রকোপ অনেকটাই কমে যায়।
মশলাদার খাবার
আয়ুর্বেদ বলছে, বেশি ঝাল বা ভাজাপোড়া শরীরের অগ্নি বাড়িয়ে দেয়। এর পরিবর্তে মৌরি ভেজানো পানি বা রান্নায় ধনে পাতার ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। মৌরি ভেজানো পানি খেলে বুক জ্বালা বা অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় নিমেষেই।