বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া সরাসরি আমাদের মস্তিষ্ক, হরমোন এবং শরীরের জৈবিক ঘড়ির ওপর প্রভাব ফেলে।
প্রথমত, বৃষ্টির দিনে সূর্যালোক কমে যায়। আকাশ মেঘলা থাকায় আলো কম পাওয়ায় শরীরে Melatonin (ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন)-এর মাত্রা বাড়তে পারে, যা তন্দ্রা বাড়ায়।
দ্বিতীয়ত, সূর্যালোক কমে গেলে Serotonin (মুড ও শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত রাসায়নিক)-এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। এতে মন কিছুটা নিস্তেজ লাগে এবং ঘুমভাব বাড়ে।
তৃতীয়ত, বৃষ্টির দিনে তাপমাত্রা সাধারণত কিছুটা কম থাকে। এই ঠান্ডা ও আরামদায়ক পরিবেশ শরীরকে বিশ্রামের দিকে ঝোঁকাতে সাহায্য করে, কারণ ঘুমের জন্য তুলনামূলক ঠান্ডা আবহাওয়া উপযোগী।
চতুর্থত, বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ অনেকের কাছে প্রশান্তিদায়ক। এটি এক ধরনের White Noise (একটানা পটভূমি শব্দ), যা বাইরের শব্দ ঢেকে মনকে শান্ত করে এবং ঘুম আনতে সহায়তা করে।
পঞ্চমত, বৃষ্টি অনেকের মধ্যে আরামদায়ক বা স্মৃতিময় অনুভূতি তৈরি করে, যা মানসিকভাবে শরীরকে বিশ্রামের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মাঝে বৃষ্টির দিনে বেশি ঘুম পাওয়া স্বাভাবিক। তবে যদি নিয়মিত অতিরিক্ত তন্দ্রা থাকে বা দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে তা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে ঘরে আলো ঢুকতে দেওয়া, হালকা ব্যায়াম করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস বজায় রাখা উপকারী।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বৃষ্টির দিনে বেশি ঘুম পাওয়া অলসতা নয়—বরং এটি শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক প্রতিক্রিয়া।