১. ঘুমের মান ভালো না হওয়া
বিছানায় দীর্ঘ সময় থাকলেও যদি ঘুম বারবার ভেঙে যায় বা গভীর ঘুম না হয়, তাহলে শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। এতে সকালে ক্লান্তি থেকে যায় এবং সারাদিন ঝিমুনি অনুভূত হতে পারে।
২. স্লিপ অ্যাপনিয়া
ঘুমের মধ্যে শ্বাস কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে আবার শুরু হওয়া এই সমস্যাকে স্লিপ অ্যাপনিয়া বলা হয়। অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেন না। নাক ডাকা, সকালে মাথাব্যথা ও অতিরিক্ত ঘুমভাব এর লক্ষণ হতে পারে।
৩. রক্তস্বল্পতা বা আয়রন ঘাটতি
শরীরে আয়রন কম থাকলে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়, ফলে দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দেয়। নারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।
৪. থাইরয়েড সমস্যা
থাইরয়েড হরমোন কম কাজ করলে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যার ফলে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি এবং ঝিমুনি দেখা দিতে পারে।
৫. ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার ওঠানামা
রক্তে শর্করা বেশি বা কম হলে শরীরে শক্তির ঘাটতি তৈরি হয়। খাওয়ার পর অতিরিক্ত ঝিমুনি থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
৬. ডিপ্রেশন ও মানসিক চাপ
মানসিক চাপ বা বিষণ্নতা শরীরে ক্লান্তি হিসেবে প্রকাশ পেতে পারে। অনেক সময় বেশি ঘুমালেও শরীর সতেজ লাগে না।
৭. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কিছু অ্যালার্জি, ব্যথানাশক বা মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ওষুধ অতিরিক্ত ঘুমভাব সৃষ্টি করতে পারে।
কী করবেন?
নিয়মিত একই সময়ে ঘুমানো-জাগা, স্ক্রিন টাইম কমানো, হালকা ব্যায়াম এবং সুষম খাবার অভ্যাস করতে হবে। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি ২–৩ সপ্তাহ ধরে অতিরিক্ত ঘুমভাব থাকে, কাজের দক্ষতা কমে যায়, নাক ডাকা বেড়ে যায় বা অন্য শারীরিক লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ঘুম শুধু সময়ের বিষয় নয়—এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ সংকেতও।