তিনি বলেন, টেলিটক কেন শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও গ্রাহক ভিত্তি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলো, সেটির কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে সক্ষম করতে বিদেশি বিনিয়োগ ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে টিআরএনবি আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ : নতুন সরকার কী ভাবছে’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল কবীর বলেন, নীতির অনিশ্চয়তা ও বারবার পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কোনো দেশে বিনিয়োগ করতে আসে। কিন্তু মাঝপথে নীতি পরিবর্তন হলে তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনাও বদলে যায়। তখন তারা বিকল্প অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে।
ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কায় বেসরকারি খাত থেকে একজনকে প্রেসিডেন্টের ডিজিটাল ইকোনমি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার কাজ পুরো দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের রোডম্যাপ ও অবকাঠামো তৈরি করা। বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক সেরা চর্চাগুলো বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা দরকার।
টেলিকম খাত প্রসঙ্গে নুরুল কবীর বলেন, দেশে তিনটি বিদেশি ও একটি দেশীয় মোবাইল অপারেটর রয়েছে। দেশীয় অপারেটর টেলিটককে বেশি স্পেকট্রাম দেওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যাশিত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও গ্রাহকসংখ্যা বাড়াতে পারেনি। কেন পারেনি, তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। সরকার টেলিটককে কত ভর্তুকি দিচ্ছে, সেই হিসাবও সরকারের কাছে রয়েছে। সম্প্রতি টেলিটককে স্পেকট্রাম দেওয়া হলেও এর অর্থ পরিশোধ স্থগিত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা কিংবা নরওয়ের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিনর নিজেদের দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে সফলভাবে সেবা দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে টেলিটক চালুর সময় মানুষের যে আগ্রহ ও আবেগ ছিল, সেটি কেন হারিয়ে গেল, তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।