শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান। একই সঙ্গে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখার আহ্বানও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মো. ছালজার রহমান এবং লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সমন্বয়ক মো. লুৎফর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ১১-২০ ফোরামের সমন্বয়ক ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান।
লিখিত বক্তব্যে মো. লুৎফর রহমান বলেন, গত ১১ বছর ধরে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এ সময়ে সম্মিলিত মুদ্রাস্ফীতি ১০৮ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো দিয়ে ২০২৬ সালে কর্মচারীদের সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মো. ওয়ারেছ আলী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার পে-কমিশন গঠন করে আশার সঞ্চার করলেও এখনো গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। বরাদ্দের কথা বলা হলেও বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকে পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কার্যকর উদ্যোগ এখনো দেখা যাচ্ছে না। মানবিক দিক বিবেচনায় দ্রুত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১:৪ অনুপাতে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, প্রতি পাঁচ বছর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান, টেকনিক্যাল পদে মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু।
এছাড়া সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পেনশন চালু, গ্রাচ্যুইটির হার ১০০ শতাংশে উন্নীত করা এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়নের দাবিও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।