শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্ষব্যাধি ও শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন এবং চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।
চিকিৎসকরা বলেন, বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে এবং আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় তারা গভীর শোক প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতিও সমবেদনা জানান তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের অন্যতম জটিলতা হলো নিউমোনিয়া, যা আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর একটি। ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ায় শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বলেও জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা সরকারকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দেন। এর মধ্যে রয়েছে— অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হামের টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখা, জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ‘ফিভার কর্নার’ চালু করা এবং সেখানে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করা।
অভিভাবকদের উদ্দেশে চিকিৎসকরা বলেন, শিশু অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে নিতে হবে। ঝাড়ফুঁক বা স্থানীয় ওষুধের দোকানের পরামর্শে চিকিৎসা করালে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
তারা জানান, দ্রুত হাসপাতালে আনা হলে আক্রান্ত শিশুকে কার্যকর চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করা সম্ভব হয়। তবে দেরিতে হাসপাতালে আনলে অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা বেড়ে যায়।
চিকিৎসকরা আরও বলেন, গত দুই বছরে টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায় চলতি বছরের মার্চ থেকে দেশে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৪ মে ২০২৬ পর্যন্ত গত দুই মাসে দেশে ৫৪ হাজার ৪১৯ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জন হামজনিত কারণে এবং আরও ৩৬৯ জন হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও আক্রান্তদের প্রায় ৯৯ শতাংশ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। সবার সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিশু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডা. রুহুল আমিন, প্রফেসর ডা. আনারুল আনাম কিবরিয়া, প্রফেসর ডা. নুরুল আমিন, ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেনু, প্রফেসর ডা. আসিফ মোস্তফা মাহমুদ এবং ডা. গোলাম সারোয়ার বিদ্যুতসহ অন্যরা।