ভারতের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া) জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন এবং মসজিদ কমিটির যৌথ সম্মতিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার (১১ জুলাই) থেকেই মসজিদটিতে নামাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয়দের কাছে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামে পরিচিত মসজিদটি প্রায় ১৩৬ বছরের পুরোনো, যা ১৯২৪ সালে কলকাতা বিমানবন্দর (নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার আগেই সেখানে নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৯৬২ সালে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণের সময়ও মসজিদটি অক্ষত রাখা হয়।
তবে এটি নতুন করে নির্মিত বিমানবন্দরের দ্বিতীয় বা ছোট রানওয়ের মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে, উচ্চ-নিরাপত্তা বেষ্টনীর (লেভেল ৩) ভেতরে অবস্থিত, যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী ন্যূনতম দূরত্ব ২৪০ মিটারের থেকে অনেক কম।
এতদিন স্থানীয় মুসল্লিদের কড়া নিরাপত্তা ও বিশেষ পাস চেকিংয়ের মাধ্যমে বাসে করে বিমানবন্দরের ভেতরে নামাজ পড়তে নিয়ে যাওয়া হতো।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, এই মসজিদের কারণে বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজও থমকে আছে প্রায় ৩০ বছর। কখনও স্থানীয় বাধা, কখনও পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারের ঢিলেমিতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়নি। তবে সম্প্রতি রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও আধুনিকায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বছরের হজ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর ২০১৩ সালের আগের পুরোনো টার্মিনাল ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে। সেই জায়গায় দিল্লির আদলে একটি বিশ্বমানের ‘অ্যারোসিটি’ এবং আধুনিক টার্মিনাল কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে।
প্রসঙ্গত, ভারতে মসজিদ ভাঙা বা উচ্ছেদ নিয়ে বিতর্কটি বর্তমানে দেশটির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং বিরোধী দলগুলো একে পক্ষপাতমূলক উচ্ছেদ হিসেবে দাবি করছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার একে অবৈধ দখল উচ্ছেদ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। তবে বাঁকড়া মসজিদের বিষয়টি ভিন্ন বলেই মনে করা হচ্ছে।