তবে ‘গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন’ নামের এই বিশেষ পুরস্কারটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বেশ সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এই পুরস্কারটি মোদির সফরের ঠিক আগমুহূর্তে তড়িঘড়ি করে তৈরি করা হয়েছিল। এমনকি পুরস্কারের প্রশংসাপত্রে সেশেলস দেশের নাম এবং রিপাবলিক বানানটি পর্যন্ত ভুল ছিল, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে মোদি সরকারকে।
যদিও পরবর্তী সময়ে সেশেলস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে একটি খসড়া কপি বলে দাবি করে এবং পুরস্কারটিকে সম্পূর্ণ আসল বলে নিশ্চিত করে।
নরেন্দ্র মোদি গত ১২ বছরে প্রায় ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। চলতি বছরের জুনেই তিনি স্লোভাক প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ডাবল ক্রস, ফার্স্ট ক্লাস’ লাভ করেন। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরাইল সফরের সময় তাকে ‘স্পিকার অব দ্য নেসেট মেডেল’ দেওয়া হয়, যা মূলত তার সফরের ঠিক আগেই তৈরি করা হয়েছিল।
এর আগে তিনি জাতিসংঘ থেকে ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন থেকে ‘গ্লোবাল গোলকিপার’ অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছেন। প্রতিটি পুরস্কার গ্রহণের সময়ই মোদি উল্লেখ করে থাকেন যে এই সম্মাননা শুধু তার একার নয়, বরং এটি সমগ্র ভারতের ১৪০ কোটি জনগণের সম্মান।
তবে এই বিপুল পরিমাণ বিদেশি পুরস্কার ভারতের প্রকৃত কোনো উপকারে আসছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর দ্বিমত রয়েছে। ভারতের ক্ষমতাসীন দল এবং সমর্থকদের দাবি, এসব সম্মাননা প্রমাণ করে যে বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব এবং মর্যাদা কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভারতের মতো একটি বিশাল বাজার ও উদীয়মান অর্থনৈতিক পরাশক্তিকে সন্তুষ্ট রাখতেই তাদের সর্বোচ্চ সম্মাননায় দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভূষিত করছে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ইয়ান হলের মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পুরস্কারগুলোর কোনো বাস্তব কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক সুবিধা নেই। বরং এগুলো বিশ্বমঞ্চে ভারতের স্বার্থকে কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রচারণা ও ভাবমূর্তি তৈরির কাজেই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।
একই সুর শোনা গেছে ওয়েস্টমিনস্টার ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক নিতাশা কাউলের কণ্ঠেও। তার মতে, সেশেলসের মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে এই পুরস্কারগুলো মোদির একনায়কতান্ত্রিক ভাবমূর্তি ও ব্যক্তিগত অহমিকা প্রচারের একটি হাতিয়ার মাত্র, যা দিন দিন আন্তর্জাতিক মহলে শ্রদ্ধার চেয়ে বেশি হাসির খোরাক জোগাচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।