প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থীর নির্বাচনে দাঁড়ানোর পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে বার্নহামের আর মাত্র একজন এমপির সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে তিনি প্রয়োজনীয় ৩২৩টি মনোনয়নের চেয়ে মাত্র একটি ভোট দূরে আছেন। বেশ কয়েকজন এমপি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপস্থিত থাকতে না পারলেও পার্লামেন্টে ফিরেই তারা বার্নহামকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেবেন।
গত মে মাসে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি ওঠার সময় বার্নহাম গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়রের দায়িত্ব ছাড়েন। এরপর উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হন। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে বার্নহাম মেয়র থেকে পার্লামেন্টের সদস্য হন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৬ বছর বয়সি বার্নহাম ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তৎকালীন লেবার প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সরকারে একাধিক মন্ত্রণালয় সামলেছেন। পরে দুইবার লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু ২০১০ সালে এড মিলিব্যান্ড ও ২০১৫ সালে জেরমি করবিনের কাছে হেরে যান। এরপর গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র পদে নির্বাচন করেন।
উত্তর ইংল্যান্ডের এই নগরের মেয়র থাকাকালে ২০২০ সালে বার্নহাম তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। কোভিড পরিস্থিতির ওই সময় প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ম্যানচেস্টারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে গেলে বার্নহাম সেটির প্রতিবাদ করেন।
এমন অবস্থানের কারণে ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে বার্নহাম ব্যাপক সমর্থন অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ বা উত্তরের রাজা উপাধি পান। একই সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতেও তার অবস্থান শক্তিশালী হয়।
স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেনে বার্নহামের নামের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে তার প্রবর্তিত ‘ম্যানচেস্টারিজম’ দর্শনও। এই দর্শনের মূল বার্তায় ব্যবসাবান্ধব নীতি ও সমাজতন্ত্রের আকাঙক্ষার কথা আছে।
বার্নহাম মনে করেন, ম্যানচেস্টারের দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থান থেকে পাওয়া শিক্ষা কাজে লাগিয়ে ব্রিটেনের অর্থনীতিকে নতুনভাবে সাজানো সম্ভব।
সূত্র: রয়টার্স।