সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক দল ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (ইউএসডিপি) নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের বার্তা গ্রহণ করেছে। তবে সংশোধনীগুলোর বিস্তারিত খসড়া কিংবা এ নিয়ে কবে আলোচনা শুরু হবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
একজন আইনপ্রণেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সংশোধনীগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা নেই। পার্লামেন্টে বিতর্ক ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেকোনো পরিবর্তন কার্যকর হবে।
জান্তা সরকারের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ধারা ৪৩৬ (এ)-এর আওতাভুক্ত বিষয়গুলো পরিবর্তনের জন্য পার্লামেন্টের ৭৫ শতাংশের বেশি সদস্যের সমর্থন এবং পরবর্তীতে গণভোটের প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে ৪৩৬ (বি)-এর আওতাভুক্ত সংশোধনীগুলো শুধু পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে অনুমোদন করা সম্ভব।
মিয়ানমারের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় ও আঞ্চলিক পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ আসন সরাসরি সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। ফলে জান্তা সমর্থিত এমপি ও ইউএসডিপি নিয়ন্ত্রিত আইনসভায় এসব সংশোধনী পাস করা সহজ হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো সংবিধানের ৫৯(এফ) ধারার বিধিনিষেধ আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা। এই ধারার কারণে বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক থাকায় কারাবন্দী নেত্রী অং সান সু চি প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। জান্তা সরকার এখন একই বিধিনিষেধ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং রাজ্য বা অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করতে চায়।
এ ছাড়া কনস্টিটিউশনাল ট্রাইব্যুনাল ও ইউনিয়ন ইলেকশন কমিশনের (ইউইসি) মেয়াদ ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি ইউইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও সংশোধনীতে রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে রাজ্য ও অঞ্চলগুলোকে নিজস্ব সংবিধান তৈরির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। তবে তা অবশ্যই কেন্দ্রীয় সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসক সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচনের প্রস্তাবও রয়েছে।
তবে জাতিগত সংখ্যালঘুদের অন্যতম প্রধান দাবি—রাজ্য ও অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে স্থানীয় আইনসভার ক্ষমতা বৃদ্ধি—এই ৪৩টি সংশোধনীর তালিকায় স্থান পায়নি। দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু দলগুলো প্রেসিডেন্টের নিয়োগ ক্ষমতা বাতিল করে স্থানীয়ভাবে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ আলোচনার পর চূড়ান্ত হওয়া এই সংশোধনী তালিকা মূলত সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখার পথ আরও মজবুত করতে পারে।