১৯৬০ সালের ২৯ জুন বরিশাল জেলায় জন্ম নেওয়া স্বপন শৈশব থেকেই সামাজিক কর্মকাণ্ডে আগ্রহী ছিলেন। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক চেতনা গঠনে ভূমিকা রাখে। ছাত্রজীবনে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী’র সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮০–এর দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের সময় রাজপথের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নেতৃত্বের স্বীকৃতি পান। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দেন এবং দলীয় রাজনীতিতে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।
দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, মিডিয়া সেলের চেয়ারম্যান এবং তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা ও গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়।
সংসদীয় রাজনীতিতে তিনি প্রথম নির্বাচিত হন ১৯৯৬ সালে এবং পুনরায় ২০০১ সালে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসন থেকে বিজয়ী হয়ে আবারও সংসদে ফেরেন। নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে তিনি আসনটি পুনরুদ্ধার করেন।
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ছাত্ররাজনীতি থেকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া পর্যন্ত তার এই যাত্রা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে জহির উদ্দিন স্বপনকে স্পষ্টভাষী ও সংগঠক নেতা হিসেবে দেখা হয়। গণতন্ত্র, নির্বাচন এবং রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নে তার অবস্থান তাকে দলীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করে তুলেছে।
রাজপথের আন্দোলন থেকে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব—এই দীর্ঘ পথচলা তার রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বরিশালের তৃণমূল থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়া জহির উদ্দিন স্বপনের গল্প বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।