সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশের মনোবল ফেরাতে এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হতে পারত। কিন্তু পেশাদার পুলিশিং কোনো শখের কাজ নয়। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ একটি বিশেষ কারিগরি বিদ্যা, যার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ। মাত্র কয়েক দিনের ওরিয়েন্টেশন দিয়ে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামিয়ে দেওয়াটা ছিল মূলত একটি ‘পপুলিস্ট’ বা জনতুষ্টিমূলক সিদ্ধান্ত। ফলে পেশাদার পুলিশ বাহিনী যখন পূর্ণ শক্তিতে মাঠে ফিরল, তখন এই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয়তা যেমন ফুরিয়ে গেল, তেমনি তাদের শৃঙ্খলার আওতায় রাখাও কঠিন হয়ে দাঁড়াল।
নিয়োগের সময় বলা হয়েছিল, দিনে ৫০০ টাকা হিসেবে মাসে ৩০ দিন কাজ করলে একজন শিক্ষার্থী ১৫ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। এটি অনেক অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীর জন্য পড়ার খরচ জোগানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে অনেক পয়েন্টে তাদের আর দেখা যাচ্ছে না। কেন এই কার্যক্রম থমকে গেল, তার কোনো সদুত্তর ডিএমপি বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, এই প্রকল্পের পেছনে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন ছিল, তার টেকসই কোনো উৎস নিশ্চিত না করেই প্রকল্পটি শুরু করা হয়েছিল। ফলে এখন বাজেট সংকটে শিক্ষার্থীদের ‘আওয়াজহীন’ভাবে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সমালোচকরা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক সিদ্ধান্তের মতো এটিও ছিল একটি ‘আবেগতাড়িত’ পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ মেয়াদে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাফিক কন্ট্রোল করার চেয়ে তাদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে নেওয়া এবং পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত করে পেশাদারিত্ব বাড়ানোই ছিল যুক্তিসঙ্গত। খণ্ডকালীন ৫০০ টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের পুলিশের বিকল্প হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা হিতে বিপরীত হয়েছে। এতে পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোয় যেমন এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে হতাশা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক শিক্ষার্থীকে এখন আর রাস্তায় দেখা যাচ্ছে না কারণ তাদের নিয়মিত ভাতা প্রদানে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আবার অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় নিয়মিত হওয়ায় ডিউটি করতে পারছেন না। অর্থাৎ নিয়োগের সময় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ বা অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের কথা মাথায় রাখা হয়নি। ফলে যে সাড়ম্বরে ‘শিক্ষার্থী ট্রাফিক’ ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল, তা এখন নিঃশব্দে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
রাজপথের বিশৃঙ্খলা কমাতে পেশাদার বাহিনীর আধুনিকায়নই যে একমাত্র পথ; এই ‘ব্যর্থ’ প্রকল্প সম্ভবত সরকারকে সেই শিক্ষাই দিচ্ছে। জনমনে প্রশ্ন, এভাবে জনগণের করের টাকা খরচ করে একের পর এক ‘পরীক্ষামূলক’ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়ভার কে নেবে?