বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Channel18

এক্সক্লুসিভ

অন্তর্বর্তী সরকারের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একতরফা চুক্তির জালে বাংলাদেশ

অন্তর্বর্তী সরকারের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একতরফা চুক্তির জালে বাংলাদেশ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া ‘পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি’ (এআরটি) নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে এমন এক চুক্তিতে সই করেছে, যা মূলত বাংলাদেশকে ১৩১টি কঠিন শর্তের বেড়াজালে আটকে ফেলেছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে মাত্র ৬টি।

আইনি ভাষায় কোনো চুক্তিতে ‘শ্যাল’ শব্দের ব্যবহার সেই শর্ত পালনকে বাধ্যতামূলক করে। ৩২ পৃষ্ঠার এই দীর্ঘ চুক্তিতে ‘বাংলাদেশ শ্যাল’ কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে ১৩১ বার। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা বা ‘ইউএস শ্যাল’ লেখা হয়েছে মাত্র ৬ বার। চুক্তির এই বিশাল ভারসাম্যহীনতা বাংলাদেশকে কার্যত একতরফাভাবে মার্কিন শর্ত মানতে বাধ্য করছে।

একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার কীভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত এমন একটি বড় সিদ্ধান্ত এককভাবে নিতে পারে, তা নিয়ে জনমনে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে জাতীয় সংসদে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে এই ‘গোলামি’ চুক্তি বাতিলের দাবি উঠেছে।

চুক্তির অধীনে বাংলাদেশের ওপর চেপে বসা প্রধান শর্তসমূহ

১. মার্কিন পণ্যে অবাধ প্রবেশাধিকার ও নিয়ন্ত্রণহীন বাজার: চুক্তি অনুযায়ী, মার্কিন পণ্য আমদানিতে শুল্ক ছাড়া অন্য কোনো নিয়ম, কাগজপত্র বা মান যাচাইয়ের শর্ত আরোপ করতে পারবে না বাংলাদেশ। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তা সনদ থাকলেই সেই পণ্য গ্রহণ করতে হবে, বাংলাদেশ অতিরিক্ত কোনো শর্ত দিতে পারবে না। এর ফলে দেশের স্থানীয় শিল্প ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

২. কৃষি ও পোলট্রি খাতে বড় ছাড়: বাংলাদেশকে মার্কিন দুগ্ধ, মাংস ও কৃষিপণ্যের মানকে বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করতে হবে। বার্ড ফ্লু বা অন্য কোনো সংক্রমণ দেখা দিলেও পুরো রাজ্য থেকে আমদানি বন্ধ করা যাবে না। কৃষি জৈব প্রযুক্তি বা জিএমও পণ্যের ক্ষেত্রেও ২৪ মাসের মধ্যে নিয়ম শিথিল করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

৩. ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ও ডেটা নিরাপত্তা: চুক্তিতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সোর্স কোড বা গোপন তথ্য চাইতে পারবে না বাংলাদেশ। এমনকি ডিজিটাল সেবার ওপর এমন কোনো কর বসানো যাবে না যা মার্কিন কোম্পানির স্বার্থের পরিপন্থী হয়। এতে দেশের সাইবার নিরাপত্তা ও রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

৪. বিমা ও বিনিয়োগ খাতে নিয়ন্ত্রণ হারানো: মার্কিন বিমা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে আর দেশীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে ‘রিইন্সিওরেন্স’ করতে হবে না। এছাড়া তেল-গ্যাস, টেলিযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ খাতে মার্কিন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মালিকানার সীমা শিথিল করতে হবে।

৫. শ্রম আইন ও ইপিজেডে নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর: চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মার্কিন চাপ মেনে ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন চালুসহ শ্রম আইনে বড় ধরনের সংশোধনী আনতে হবে। এমনকি নির্দিষ্ট কিছু ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করার মতো বিচারিক বিষয়েও শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ঝুঁকি

চুক্তির একটি অংশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক চুল্লি বা জ্বালানি কিনতে পারবে না যারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এটি বাংলাদেশের স্বাধীন জ্বালানি নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের এই অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আজ্ঞাবহ বাজারে পরিণত হওয়ার পথে। চুক্তিতে একতরফা শর্তারোপ করা হলেও বিনিময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বা অন্য পণ্যের জন্য বড় কোনো সুনির্দিষ্ট সুবিধার নিশ্চয়তা মেলেনি। বরং বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক বসানোর সুযোগ রাখা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।

অন্তর্বর্তী সরকার জনমতের তোয়াক্কা না করে কেন এমন একতরফা চুক্তিতে সই করলো, তা নিয়ে এখন চারদিকে জবাবদিহিতার দাবি উঠছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণী ক্ষমতা বহুলাংশে ওয়াশিংটনের হাতে চলে যাবে।

আরও

ধানমন্ডিতে সাংবাদিকের ওপর জামায়াত কর্মীদের হামলা কী বার্তা দেয়?

এক্সক্লুসিভ

ধানমন্ডিতে সাংবাদিকের ওপর জামায়াত কর্মীদের হামলা কী বার্তা দেয়?

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ‘দৈনিক সকালের বার্তা’র রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশিরের ওপর বাংলাদেশ...

২০২৬-০৬-২৩ ১৩:৩৪

উপস্থিতি জানান দিতে চায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ

এক্সক্লুসিভ

উপস্থিতি জানান দিতে চায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ তাদের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাঠে উপস্থিতি জানান দেওয়ার কর্মসূচি নিয়...

২০২৬-০৬-২৩ ১২:২৭

হামের প্রকোপ ও শিশুর মৃত্যুর মিছিল: উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে দায়ীরা?

এক্সক্লুসিভ

হামের প্রকোপ ও শিশুর মৃত্যুর মিছিল: উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে দায়ীরা?

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে একের পর এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মৃত্য...

২০২৬-০৬-১৯ ১৫:৩৭

ভূরাজনীতির টানাপোড়েনে কতটা ঝুঁকিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা?

এক্সক্লুসিভ

ভূরাজনীতির টানাপোড়েনে কতটা ঝুঁকিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা?

সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক রাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং দক্ষিণ এশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ ক...

২০২৬-০৬-১৯ ১৫:২৬

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে এত আলোচনা কেন?

এক্সক্লুসিভ

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে এত আলোচনা কেন?

২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশজুড়ে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কার আলোচনা উঠেছে। নির্বাসিত ও আত্মগোপনে থাকা...

২০২৬-০৬-১৯ ১৪:৪৮

স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিয়ে ফিরছে আওয়ামী লীগ?

এক্সক্লুসিভ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিয়ে ফিরছে আওয়ামী লীগ?

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখন রাজপথ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সব মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।...

২০২৬-০৬-১২ ১৫:৫৫