বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Channel18

এক্সক্লুসিভ

অন্তর্বর্তী সরকারের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একতরফা চুক্তির জালে বাংলাদেশ

অন্তর্বর্তী সরকারের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একতরফা চুক্তির জালে বাংলাদেশ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া ‘পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি’ (এআরটি) নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে এমন এক চুক্তিতে সই করেছে, যা মূলত বাংলাদেশকে ১৩১টি কঠিন শর্তের বেড়াজালে আটকে ফেলেছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে মাত্র ৬টি।

আইনি ভাষায় কোনো চুক্তিতে ‘শ্যাল’ শব্দের ব্যবহার সেই শর্ত পালনকে বাধ্যতামূলক করে। ৩২ পৃষ্ঠার এই দীর্ঘ চুক্তিতে ‘বাংলাদেশ শ্যাল’ কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে ১৩১ বার। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা বা ‘ইউএস শ্যাল’ লেখা হয়েছে মাত্র ৬ বার। চুক্তির এই বিশাল ভারসাম্যহীনতা বাংলাদেশকে কার্যত একতরফাভাবে মার্কিন শর্ত মানতে বাধ্য করছে।

একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার কীভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত এমন একটি বড় সিদ্ধান্ত এককভাবে নিতে পারে, তা নিয়ে জনমনে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে জাতীয় সংসদে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে এই ‘গোলামি’ চুক্তি বাতিলের দাবি উঠেছে।

চুক্তির অধীনে বাংলাদেশের ওপর চেপে বসা প্রধান শর্তসমূহ

১. মার্কিন পণ্যে অবাধ প্রবেশাধিকার ও নিয়ন্ত্রণহীন বাজার: চুক্তি অনুযায়ী, মার্কিন পণ্য আমদানিতে শুল্ক ছাড়া অন্য কোনো নিয়ম, কাগজপত্র বা মান যাচাইয়ের শর্ত আরোপ করতে পারবে না বাংলাদেশ। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তা সনদ থাকলেই সেই পণ্য গ্রহণ করতে হবে, বাংলাদেশ অতিরিক্ত কোনো শর্ত দিতে পারবে না। এর ফলে দেশের স্থানীয় শিল্প ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

২. কৃষি ও পোলট্রি খাতে বড় ছাড়: বাংলাদেশকে মার্কিন দুগ্ধ, মাংস ও কৃষিপণ্যের মানকে বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করতে হবে। বার্ড ফ্লু বা অন্য কোনো সংক্রমণ দেখা দিলেও পুরো রাজ্য থেকে আমদানি বন্ধ করা যাবে না। কৃষি জৈব প্রযুক্তি বা জিএমও পণ্যের ক্ষেত্রেও ২৪ মাসের মধ্যে নিয়ম শিথিল করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

৩. ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ও ডেটা নিরাপত্তা: চুক্তিতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সোর্স কোড বা গোপন তথ্য চাইতে পারবে না বাংলাদেশ। এমনকি ডিজিটাল সেবার ওপর এমন কোনো কর বসানো যাবে না যা মার্কিন কোম্পানির স্বার্থের পরিপন্থী হয়। এতে দেশের সাইবার নিরাপত্তা ও রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

৪. বিমা ও বিনিয়োগ খাতে নিয়ন্ত্রণ হারানো: মার্কিন বিমা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে আর দেশীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে ‘রিইন্সিওরেন্স’ করতে হবে না। এছাড়া তেল-গ্যাস, টেলিযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ খাতে মার্কিন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মালিকানার সীমা শিথিল করতে হবে।

৫. শ্রম আইন ও ইপিজেডে নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর: চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মার্কিন চাপ মেনে ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন চালুসহ শ্রম আইনে বড় ধরনের সংশোধনী আনতে হবে। এমনকি নির্দিষ্ট কিছু ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করার মতো বিচারিক বিষয়েও শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ঝুঁকি

চুক্তির একটি অংশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক চুল্লি বা জ্বালানি কিনতে পারবে না যারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এটি বাংলাদেশের স্বাধীন জ্বালানি নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের এই অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আজ্ঞাবহ বাজারে পরিণত হওয়ার পথে। চুক্তিতে একতরফা শর্তারোপ করা হলেও বিনিময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বা অন্য পণ্যের জন্য বড় কোনো সুনির্দিষ্ট সুবিধার নিশ্চয়তা মেলেনি। বরং বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক বসানোর সুযোগ রাখা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।

অন্তর্বর্তী সরকার জনমতের তোয়াক্কা না করে কেন এমন একতরফা চুক্তিতে সই করলো, তা নিয়ে এখন চারদিকে জবাবদিহিতার দাবি উঠছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণী ক্ষমতা বহুলাংশে ওয়াশিংটনের হাতে চলে যাবে।

আরও

অর্থের সঙ্গে বাড়ছে সংস্কারের চাপ, ঋণের কঠিন পরীক্ষা

এক্সক্লুসিভ

অর্থের সঙ্গে বাড়ছে সংস্কারের চাপ, ঋণের কঠিন পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক দাতা ও ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন মোড় নিচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ব্যাংক খাত সংস্কারে অর্থ দিচ...

২০২৬-০৯-১৪ ১২:৩১

রাজধানীতে ৩০০-এর বেশি ছিনতাই স্পট, তালিকায় ১,৩৮৭ অপরাধী

এক্সক্লুসিভ

রাজধানীতে ৩০০-এর বেশি ছিনতাই স্পট, তালিকায় ১,৩৮৭ অপরাধী

রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। ছিনতাইকারীদের হাতে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও আ...

২০২৬-০৯-১২ ১৪:২৪

অর্থনীতির বড় অংশ করের বাইরে, রাজস্ব আটকে যাচ্ছে যেভাবে

এক্সক্লুসিভ

অর্থনীতির বড় অংশ করের বাইরে, রাজস্ব আটকে যাচ্ছে যেভাবে

বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় হয়েছে। মানুষের আয় ও ব্যবসার পরিধি বেড়েছে। ডিজিটাল লেনদেনও দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায়...

২০২৬-০৯-১০ ১২:৪৬

দুই বছরে ২৩ পুলিশের আত্মহত্যা, সংকট কি শুধুই পারিবারিক?

এক্সক্লুসিভ

দুই বছরে ২৩ পুলিশের আত্মহত্যা, সংকট কি শুধুই পারিবারিক?

দেশে দুই বছরে অন্তত ২৩ পুলিশ সদস্য আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু নথিতে এসব মৃত্যুর কারণ হিসেবে বারবার উঠে এসেছে একই ধরনের শব্...

২০২৬-০৯-০৯ ১৩:৩১

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ‘নেই’

এক্সক্লুসিভ

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ‘নেই’

ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন ভারতে অবস্থানকারী ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সময় যত ঘনিয়ে আসছ...

২০২৬-০৯-০৬ ১২:৪৯

রাজনীতিতে বিএনপির ৪৮ বছর, সামনে কঠিন পরীক্ষা

এক্সক্লুসিভ

রাজনীতিতে বিএনপির ৪৮ বছর, সামনে কঠিন পরীক্ষা

প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পূর্ণ করলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দীর্ঘ এই রাজনৈতিক পথচলায় ক্ষমতা, আন্দোলন, ভাঙন, দমন-পীড়ন ও...

২০২৬-০৯-০১ ১২:৩০