সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেবল রাস্তার উন্নয়ন করলেই হবে না, যানজটের মূলে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু অব্যবস্থাপনা। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ফিটনেসবিহীন গাড়ি বিকল হয়ে পড়া যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ। মহাসড়কের মাঝখানে গাড়ি নষ্ট হলে মুহূর্তেই মাইলের পর মাইল জ্যাম তৈরি হয়। মোড়ে মোড়ে বা বাস স্ট্যান্ডের বাইরে গিয়ে যাত্রী তোলা ও যত্রতত্র পার্কিং সড়কের প্রশস্ততা কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে টঙ্গী, চন্দ্রা, সাভার এবং কাঁচপুর এলাকার প্রবেশপথগুলোতে এই সমস্যা তীব্র। ট্রাফিক আইন অমান্য করে উল্টো পথে গাড়ি চালানোর প্রবণতা অনেক সময় পুরো সড়কের গতি স্থবির করে দেয়।
ঈদে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ নিয়মিত ঘটনা। তবে বিষয়টিকে একটু ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ রয়েছে। মালিকদের দাবি, ঈদের সময় একমুখী যাত্রী বেশি থাকে; অর্থাৎ যাওয়ার সময় বাস পূর্ণ থাকলেও ফেরার সময় প্রায় খালি গাড়ি নিয়ে ফিরতে হয়। অন্যদিকে, যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ টাকা আদায় করা হয়।
এখানে দরকার একটি সুষম সমন্বয়। বাস মালিকদের উচিত ‘উৎসব বোনাস’ বা তেলের বাড়তি খরচ বিবেচনায় নিয়ে ভাড়ার একটি যৌক্তিক এবং সরকার নির্ধারিত ঊর্ধ্বসীমা মেনে চলা। অন্যদিকে, যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে যাতে তারা কালোবাজারি বা দালালের খপ্পরে না পড়েন। পরিবহনমালিকরা যদি স্বচ্ছতার সঙ্গে একটি ‘রিজনেবল’ রেইট চার্ট ঝুলায়, তবে যাত্রী ও মালিক উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট থাকতে পারে।
এবার যাতে গত বছরের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য কিছু পদক্ষেপ জরুরি। মহাসড়কের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ৫ কিলোমিটারে একটি করে রেকার প্রস্তুত রাখতে হবে যাতে কোনো গাড়ি নষ্ট হওয়া মাত্রই সরিয়ে ফেলা যায়। মহাসড়কের পাশে অবৈধ পশুর হাট বসানো কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। ঈদে ঘরে ফেরা কেবল ব্যবসা নয়, এটি একটি মানবিক দায়বদ্ধতাও। মালিকদের উচিত মুনাফার চেয়ে সেবাকে গুরুত্ব দেওয়া, আর যাত্রীদের উচিত রাস্তায় শৃঙ্খলার সাথে চলাচল করে ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঢাকা-ময়মনসিংহ থেকে বরিশাল; সব পথই যেন হয়ে ওঠে নির্বিঘ্ন।