বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক সময় সন্ধ্যা ৭টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মিডিয়া চত্বরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
মাহ্দী আমিন বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকের শুরুতেই সরকার গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান গুতেরেস।
জবাবে তারেক রহমান দীর্ঘদিন পর একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারার অনুভূতি তুলে ধরেন। তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভূমিকা ও পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথাও উল্লেখ করেন।
এলডিসি উত্তরণ নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়। বৈশ্বিক অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে উত্তরণের সময়সীমা কিছুটা বাড়ানোর বিষয়ে জাতিসংঘের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, বাংলাদেশ-জাতিসংঘ সহযোগিতা এবং বিশ্ব ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রশংসা গুতেরেসের
মাহ্দী আমিন জানান, বহুপাক্ষিক কূটনীতি, বিশ্বশান্তি ও বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
তিনি বলেন, বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিনিদের অধিকার এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী তার অবস্থান তুলে ধরেছেন।
জলবায়ু ও স্বাস্থ্য খাতেও পরিকল্পনা
সফরের তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যবিষয়ক দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এসব আয়োজনে বাংলাদেশের পরিবেশনীতি, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানে মা ও শিশুর মৃত্যুহার কমানো এবং তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
মাহ্দী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় দিনের কর্মসূচিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জলবায়ু ও স্বাস্থ্যবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশগ্রহণ ছিল।