সোমবার (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘সুফিয়া কামাল হল সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদা দাবির অভিযোগের কোনো প্রমাণ তদন্ত কমিটি পায়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট তাকে ওই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
এর আগে, গত বছরের নভেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের ক্যানটিন চালু রাখার বিনিময়ে ক্যানটিন মালিকের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে হল সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রীর বিরুদ্ধে। তবে সে সময় তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করেন।
পরে অভিযোগটি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে কমিটি তাদের প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেয়। প্রতিবেদনে অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়।
এদিকে, অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর সানজানা চৌধুরী রাত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাধীনভাবে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর আদর্শিক দ্বন্দ্বের কারণে তিনি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। একজন নারী হিসেবে তাকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও ‘মোরাল পুলিশিংয়ের’ মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর সত্য সামনে এলেও এ সময়ে তার ব্যক্তিগত সম্মান, মর্যাদা ও মানসিক শান্তির যে ক্ষতি হয়েছে, তার দায়ভার কে নেবে—এ প্রশ্ন রয়ে গেছে। নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।