সরেজমিনে উপজেলার তালখড়ি, শতখালী, ধনেশ্বরগাতীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কেউ ধান কাটছেন, কেউ সারি করে রাখছেন, আবার কেউ গরু-মহিষ কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে করে ধান বাড়িতে নিচ্ছেন। অনেকেই মাঠেই মাড়াইয়ের কাজ শেষ করছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানতালে ধান কাটা ও মাড়াই কাজে অংশ নিচ্ছেন। তীব্র রোদ এড়াতে সকাল ও বিকেলেই কাজ করছেন অধিকাংশ কৃষক।
উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের দিঘী গ্রামের কৃষক রতন বিশ্বাস বলেন, এ বছর সাত বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। ফলন ভালো হলেও শ্রমিকের মজুরি নিয়ে চিন্তায় আছি। এক মণ ধান দিয়েও একজন শ্রমিকের মজুরি হচ্ছে না। এতে করে অর্ধেক ফসলই শ্রমিক খরচে চলে যেতে পারে।
একই ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামের কৃষক তোবারেক মোল্যা বলেন, আট একর জমিতে ধান চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে দেনা শোধ করে পরিবার চালাতে পারব। না হলে বিপদে পড়তে হবে।
তালখড়ি ইউনিয়নের ছান্দড়া গ্রামের কৃষক ফিরোজ হোসাইন বলেন, গত বছর যে শ্রমিক ৬০০-৭০০ টাকায় পাওয়া যেত, এবার সেই শ্রমিকের মজুরি ১১০০-১২০০ টাকায় উঠেছে। ধানের দাম ভালো না হলে বড় সমস্যায় পড়ব। বিচুলির দামও কম, তাই চিন্তা বাড়ছে।
কৃষক এনামুল বিশ্বাস, নজরুল মোল্যা, হরিদাস ও গোপালসহ আরও অনেকে বলেন, ভালো ফলন হলেও বৈশাখী ঝড়, শ্রমিক সংকট এবং কম দামের আশঙ্কা তাদের দুশ্চিন্তার বড় কারণ। তারা মনে করেন, শ্রমবাজারে মজুরি নির্ধারণে কোনো নীতিমালা থাকলে কৃষক ও শ্রমিক উভয়ের জন্যই সুবিধা হতো।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১৩ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। গড় ফলন ধরা হচ্ছে হেক্টরপ্রতি ৪ দশমিক ৮ টন। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ ধান কর্তন সম্পন্ন হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল হাসনাত বলেন, উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাতের কারণে এবার উৎপাদন গত বছরের তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট কাটাতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও রিপার মেশিন ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটলে কৃষকের সময় ও খরচ দুটোই কমবে, একই সঙ্গে শ্রমিক সংকটও অনেকটা দূর হবে।