জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন জানান, যশোরের মণিরামপুর, ঝিকরগাছা ও সদর উপজেলার লক্ষাধিক চাষি রপ্তানিমুখী মাছ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। তাদের উৎপাদিত মাছই রপ্তানির বড় অংশ জোগান দিচ্ছে।
জেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে পাবদা, ইলিশ, ভেটকি, পারশে, ট্যাংরা ও পাঙ্গাশসহ মোট ৬৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৯৯ কেজি মাছ ভারতে রপ্তানি হয়েছে। এর আর্থিক মূল্য ছিল ২ কোটি ৭২ লাখ ১৩ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। মোট রপ্তানির মধ্যে ৭৬ দশমিক ৮০ শতাংশই ছিল পাবদা।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে একই বন্দর দিয়ে রপ্তানি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮২ লাখ ৯২ হাজার ৫৫০ কেজিতে। সে সময় আয় হয় ২ কোটি ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৭৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৩১২ কোটি ৫১ লাখ টাকা)। এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানির পরিমাণ ও আয়—উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
সবশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৪২ হাজার ৬৯০ কেজি মাছ। এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৬ মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৪৭০ কোটি ৬১ লাখ টাকার সমান।
যশোর জেলা মৎস্য অফিসে অনুষ্ঠিত ‘রপ্তানি বৃদ্ধিতে মাছের পোনা উৎপাদনে বৈচিত্র্যকরণ ও চাষ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। কর্মশালার আয়োজন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) ও বাংলাদেশ নন-প্যাকার ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএনপিএফইএ)।
কর্মশালায় বিপিসির সহকারী পরিচালক পলাশ ঘোষ জানান, বর্তমানে মোট মাছ রপ্তানির ৮৮ দশমিক ৫৫ শতাংশই পাবদা মাছ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ২১ লাখ ৬৯ হাজার ৫২০ কেজি পাবদা রপ্তানি হয়েছে। এছাড়া ইলিশ, টেংরা, পারশে, ভেটকি ও কার্প জাতীয় মাছও রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আমদানিকৃত মাছের তুলনায় রপ্তানি আয় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মৎস্য রপ্তানিতে প্রায় ৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়ক।
তবে ইতিবাচক অগ্রগতির পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। জেলা হ্যাচারি মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ফিরোজ খান বলেন, মণিরামপুর, ঝিকরগাছা ও যশোর সদর এলাকায় ব্যাপক হারে পাবদা উৎপাদিত হলেও স্থানীয়ভাবে পোনা উৎপাদনের ঘাটতি রয়েছে।
যশোর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার দাস বলেন, স্থানীয়ভাবে পোনা উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধানের মাধ্যমে এ খাত আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।