প্রতারণার কৌশল: ‘ডাক্তার’ পদবি, দালাল চক্র ও ভুয়া আশ্বাস
অভিযান সূত্রে জানা যায়, এম কে এ সাকিদার নামের ওই ব্যক্তি পেশায় একজন পল্লি চিকিৎসক হলেও গত প্রায় তিন বছর ধরে নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিয়ে রোগী দেখে আসছিলেন। নিজের নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে সাধারণ রোগীদের বিভ্রান্ত করতেন তিনি।
শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে—শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় দালালদের মাধ্যমে রোগী সংগ্রহ করতেন তিনি। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর কথা বলে রোগীদের তার ব্যক্তিগত চেম্বারে নিয়ে আসা হতো।
রোগীদের অভিযোগ: সরকারি চিকিৎসার নাম করে প্রতারণা
ভুক্তভোগী কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, তাদেরকে বলা হয়েছিল সরকারি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানো হবে। কিন্তু পরে বিভিন্ন কৌশলে তাদের ওই পল্লি চিকিৎসকের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়, যা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে অভিযোগ করেন তারা।
আইনি ব্যবস্থা ও সতর্কবার্তা
অভিযান শেষে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এম কে এ সাকিদারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের প্রতারণামূলক চিকিৎসা কার্যক্রম জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
মেহেদী হাসান বলেন, “ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা দেওয়া শুধু প্রতারণাই নয়, এটি মানুষের জীবনের জন্য হুমকি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
জনসচেতনতার বার্তা
স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিবন্ধিত চিকিৎসক যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নামে প্রতারণা রোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন প্রতারণা নয়; বরং স্বাস্থ্য খাতে নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞ পরিচয়ের আড়ালে অপচিকিৎসা যেন আর না ঘটে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।