রবিবার (৩ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার এবং সঞ্চালনা করেন কোষাধ্যক্ষ আমিনুর রসুল। লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি অধ্যাপক কাসমির রেজা।
লিখিত বক্তব্যে কাসমির রেজা বলেন, “দেশের মোট উৎপাদিত ধানের প্রায় ২০ শতাংশ আসে হাওর থেকে। চলতি বোরো মৌসুমে মার্চের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত টানা বৃষ্টি ও বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় অন্তত ৭৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে, শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও প্রায় ৮০০ হেক্টর। হাওরে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।”
তিনি উল্লেখ করেন, “জলাবদ্ধতা এবার ভয়াবহ আকার নিয়েছে, যা হাওরবাসী আগে দেখেননি। নদীর নাব্যতা হ্রাস, অপরিকল্পিত বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ, বাঁধ নির্মাণে বিলম্ব এবং দুর্নীতি পরিস্থিতি জটিল করেছে। ফেব্রুয়ারির সময়সীমা পেরিয়ে অনেক বাঁধের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় ক্ষতি বেড়েছে।”
সভাপতির বক্তব্যে নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, “প্রতিবছর বন্যা ও ফসলহানি হলেও কার্যকর সমাধান দেখা যায় না। বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও বন্যা নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি নেই।” তিনি সংশ্লিষ্ট দফতর ও ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি জানান।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, হাওরের সমস্যা মানবসৃষ্ট; অবকাঠামোগত হস্তক্ষেপে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষকরা নৌকা ও শ্রমিক সংকটে পড়ছেন, নারী শ্রমিকদের অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা বণ্টনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
তাদের দাবিগুলো হচ্ছে— ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বছরব্যাপী সহায়তা, নদী-খাল খনন, অপরিকল্পিত বাঁধ-সড়ক বন্ধ, দুর্নীতির বিচার, গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, স্লুইসগেট অপসারণ ও নতুন নির্মাণ বন্ধ, ১০ লাখ টন ধান ক্রয়, সুদমুক্ত ঋণ ও পুনঃতফসিল, কমিউনিটি মাড়াই কেন্দ্র, ধান শুকানোর ড্রায়ার, বজ্রপাত প্রতিরোধ ব্যবস্থা, জলমহাল উন্মুক্তকরণ, বিকল্প কর্মসংস্থান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে চাল ও নগদ সহায়তা, জলবায়ু তহবিল বরাদ্দ, উঁচু কমিউনিটি খামার নির্মাণ।