রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম সৈয়দ হাসানুজ্জামান লোটন। তিনি রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ফর ল্যান্ডলেস (র্যাডল) নামক একটি এনজিওর মহাসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
লোটন টাঙ্গাইল সদর থানার আকুরঠাকুরপাড়া শিমুলতলী এলাকার মৃত সৈয়দ এম এন হুদার ছেলে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. এনামুল ইসলাম বলেন, সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় র্যাডল এর মহাসচিব সৈয়দ হাসানুজ্জামান লোটনকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৪২০ ধারায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ৭২ হাজার ১০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ের সময় আসামি পলাতক ছিলেন। ফলে সাজা পরোয়ানামূলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, আসামি র্যাডলের মহাসচিব সৈয়দ হাসানুজ্জামান লোটন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামের ভূমিহীনদের মধ্যে ঋণ বিতরণের জন্য ৭০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। চুক্তি অনুযায়ী ৩ শতাংশ সার্ভিস চার্জসহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারকে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এছাড়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম জেলার ১০টি আদর্শ গ্রামের ভূমিহীনদের মধ্যে ঋণ বিতরণের জন্য র্যাডলের মাধ্যমে মোট ১২ লাখ ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই অর্থ বিতরণ ও আদায়ের দায়িত্বে ছিলেন আসামি। কিন্তু তিনি বিতরণ করা অর্থ থেকে ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় জেলা দুর্নীতি দমন ব্যুরোর সহকারী পরিদর্শক চৌধুরী এন এম আলম রাউজান থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০১৭ সালের ২২ মার্চ আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।