মিশরের কোচের শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ড বলছে, হারের হতাশায় মাঝেমধ্যে বিতর্কিত কাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এই যেমন আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর রেফারি, ফটোগ্রাফার ও ফিফার সদস্যদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করেন। এমনকি মাঠে তার প্রতিক্রিয়ার ছবি তুলে ধরতে ক্যামেরা তাক করা এক ফটোগ্রাফারকে মারতেও যান তিনি। কিন্তু স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা কর্মীদের হস্তক্ষেপে তাকে ঠেকানো হয়েছিল।
এই প্রথম নয়, হোসামের সহিংস আচরণের ইতিহাস বেশ লম্বা। মানে এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মিশরীয় ফুটবলে একাধিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি তার মারমুখী আচরণের কারণে। বিশেষ করে আল মাসরির কোচ থাকাকালে। ওই সময় মিশরীয় ফুটবল ফেডারেশন তাকে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি জরিমানাও করেছিল। কারণ তিনি ম্যাচ রেফারিকে অপমান করেছিলেন। এছাড়া দর্শক-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে অশালীন অঙ্গভঙ্গিও করেছেন।
২০১৬ সালের জুলাইয়ে ঘটেছিল সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা। গাজল আল মাহাল্লার বিপক্ষে আল মাসরির ম্যাচের পর এক সরকারি ফটোগ্রাফারকে মারার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জেলও খেটেছিলেন। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গিয়েছিল, পুরো মাঠ জুড়ে ওই ফটোগ্রাফারকে তাড়িয়ে বেড়ান হোসাম। মাথায় আঘাত করেন এবং তার ক্যামেরা মাটিতে আছড়ে ভেঙে ফেলেন।
অবশ্য বেশিদিন কারাগারে থাকতে হয়নি হোসামকে। ভুক্তভোগী অভিযোগ তুলে নেন। তবে ক্যামেরা ভেঙে ফেলার কারণে থাকে ৫০০ মিশরীয় পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছিল। স্থানীয় ফেডারেশন তাকে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করে।
কোচ হিসেবেই নয়, খেলোয়াড় থাকাকালেও আগ্রাসী ছিলেন হোসাম। জামালেক এসসির খেলোয়াড় হিসেবে বৈরুতে আল আনসারের মুখোমুখি হয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। প্রতিপক্ষ কোচিং স্টাফ ও রেফারির ওপর হাত তোলেন।
আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগেও ডালাসে টিম হোটেলে এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে হোসাম ও তার সহকারী কোচ ও যমজ ভাই মারামারিতে জড়ান। সব মিলিয়ে বলাই যায়, মেজাজ প্রায় সময়ই হারান হোসাম।
শেষ পর্যন্ত ফিফার শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন বিতর্কিত কোচ হোসান হাসান।