এর বাইরে মাত্র দু’বার, ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ২০১৪ ব্রাজিল আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল যথাক্রমে স্পেন ও জার্মানি। এবার ইউরোপের বাইরে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছে ইউরোপের দেশগুলো।
উত্তর আমেরিকার তিন দেশে অনুষ্ঠিত এবারের টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া আটটি দলের ছয়টিই যথা– ফ্রান্স, নরওয়ে, ইংল্যান্ড, স্পেন, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ড ইউরোপের। এছাড়া লাতিন আমেরিকা থেকে আর্জেন্টিনা ও আফ্রিকা মহাদেশ থেকে গত আসরের সেমিফাইলিস্ট মরক্কো টুর্নামেন্টের শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে।
এর আগে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মাত্র তিনবার এমন সাফল্য পেয়েছিল ইউরোপের দলগুলো। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ইউরোপের ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও সুইডেন কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত পরের বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছিল ফ্রান্স, ইতালি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও ক্রোয়েশিয়া।
এর দুই দশক পর রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০১৮ বিশ্বকাপে ইউরোপিয়রা আধিপত্য দেখায়। ওই আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে অংশ নিয়েছিল ফ্রান্স, বেলজিয়াম, রাশিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সুইডেন ও ইংল্যান্ড।
এবারের টুর্নামেন্টে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্রথম দিনেই প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ফ্রান্স। পরদিন ব্রাজিলকে হারিয়ে নরওয়ে এবং টুর্নামেন্টের সহস্বাগতিক মেক্সিকোকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নেয় ইংল্যান্ড। শেষ ষোলোর এর পরের লড়াইয়ে পর্তুগাল ও স্পেনের ইউরোপিয়ান ডার্বিতে জিতেছে স্পেন। বিশ্বকাপের আরেক স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে শেষ আটের টিকিট পায় বেলজিয়াম। আর বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড সিক্সটিন’ এর শেষ দিন কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারায় সুইজারল্যান্ড।
পুরো বিশ্বকাপ বিবেচনায় নিলে শেষ আট পর্যন্ত ইউরোপের সেরা সাফল্য ১৯৩৪। ইতালিতে হওয়া সেই বিশ্বকাপের শীর্ষ আটের আটটি দলই ছিল ইউরোপের। এরপর সর্বোচ্চ সাতবার খেলেছে ১৯৫৮ সুইডেন ও ১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে। আর ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে শেষ আটে খেলেছিল মাত্র তিনটি দল। এটাই বিশ্বকাপে ইউরোপের দলগুলোর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে খারাপ ফল।