আটক দুই পুলিশ সদস্য হলেন- কনস্টেবল মোস্তাইন বিল্লাহ (পুলিশ সদস্য নম্বর-১২২৮) ও কনস্টেবল নাজমুল ইসলাম। মোস্তাইন বিল্লাহ সাতক্ষীরা পুলিশের এসএফ শাখায় কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। অপরদিকে নাজমুল ইসলাম ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত।
ব্যাগে মিলেছে ৫৬ বোতল কোরেক্স
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরা বাইপাস সড়ক এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুই পুলিশ সদস্যকে আটক করে তাদের কাছে থাকা একটি ব্যাগে তল্লাশি চালানো হয়। ব্যাগ থেকে ৫৬ বোতল কোরেক্স সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
পুলিশ সূত্রের দাবি, মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বেশ কিছুদিন ধরে তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
মাদক বিক্রির অভিযোগ
পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, মোস্তাইন বিল্লাহ ও নাজমুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরা শহরের সার্কিট হাউস মোড় এলাকার একটি দোকানে বসে মাদক বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
সম্প্রতি পুলিশের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মোস্তাইন বিল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করে তা বিক্রির অভিযোগের কথাও উঠে আসে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পুলিশ সূত্র আরও জানায়, সার্কিট হাউস মোড় থেকে কাঁচাবাজার পার হয়ে একটি চা ও ক্যারাম খেলার দোকানে বসে মোস্তাইন বিল্লাহ ইয়াবা, কোরেক্স ও গাঁজা বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে দোকানের মালিক তাইফুর তাকে সহযোগিতা করতেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাইন বিল্লাহ, নাজমুল ইসলাম কিংবা সংশ্লিষ্ট দোকান মালিক তাইফুরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রচলিত আইনেই ব্যবস্থা
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, আটক দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা পুলিশ সদস্য হলেও তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে পদমর্যাদা বিবেচনা না করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫৬ বোতল কোরেক্স উদ্ধারের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং মাদকের উৎস ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্তে কী তথ্য পাওয়া যায়, তা এখন দেখার বিষয়।