সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সুরক্ষা এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও ইউনিসেফের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি, ঢাকার পরিচালক সরকার সারোয়ার আলম।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আওতায় মসজিদ
জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রাণঘাতী রোগ। এর বিস্তার ঠেকাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ২৫ জুলাই থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতি শনিবার জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারি কার্যালয়ের প্রাঙ্গণ ও ছাদ, পুকুর, জলাশয়সহ ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে থাকা বিভিন্ন স্থান এরই মধ্যে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এবার জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে অভিযান চালানো হবে।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, এই উদ্যোগ শুধু ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য নয়; পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার একটি সামাজিক আন্দোলনও। পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।
মসজিদ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান
মসজিদ ও এর আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ যেন মানুষের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নির্মল প্রার্থনার স্থান হয়।
তিনি বলেন, সবার সামর্থ্য এক নয়, তবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে আন্তরিকতার ঘাটতি থাকা উচিত নয়।
ইমামদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব
সমাজে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের প্রভাবের কথা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষক ও ইমামদের মানুষ সম্মানের জায়গায় রাখেন। সমাজের মানুষের ওপর তাদের প্রভাবও রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কাজে ব্যবহার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনগণ। মানুষকে মূল্যবোধসম্পন্ন, মানবিক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব সবার। ‘এই দেশটা আমাদের। আমাদেরই সাজাতে হবে’—বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কর্মশালায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির কর্মকর্তা, ইউনিসেফের প্রতিনিধি এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা অংশ নেন।