বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠানে সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদায়ী কর্মকর্তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মচারী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, "আমি দীর্ঘদিন স্যারের সাথে কাজ করেছি। তিনি অত্যন্ত সৎ, দক্ষ ও মেধাবী একজন মানুষ। কর্মক্ষেত্রে তিনি আমাদের সবসময় অভিভাবকের মতো আগলে রেখেছেন ও সহযোগিতা করেছেন। আমরা তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।"
আরেক কর্মচারী রিনা আক্তার বক্তব্যের শুরুতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। মাকসুদা খাতুনের কর্মকালের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বিদায়ী কর্মকর্তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবার কাছে দোয়া চান।
অনুষ্ঠানে সমাজকর্মীরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, "আজকে আমরা একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল অভিভাবককে হারালাম। তিনি সবসময় আমাদের ডানা দিয়ে নিরাপদে রাখতেন। কাজের সূত্রে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে আমরা ক্ষমা প্রার্থী। স্যারের এই অবদান আমরা সবসময় মনে রাখবো।"
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নব যোগদানকৃত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "আজকের এই বিদায় অনুষ্ঠান প্রমাণ করে আপনারা বিদায়ী কর্মকর্তার প্রতি কতটা অনুগত ও দায়বদ্ধ ছিলেন। তিনি অত্যন্ত দক্ষ হাতে এই অফিসটি সাজিয়ে রেখে গেছেন। আমি তাঁর এই ভালো কাজগুলো এগিয়ে নিতে চাই। কর্মক্ষেত্রে নতুন হলেও এই অফিস পরিচালনায় আমি বিদায়ী স্যারের পরামর্শ ও আপনাদের সবার সহযোগিতা কামনা করি। তাঁর নতুন কর্মস্থল যেন সুখ ও শান্তির হয়, সেই কামনাই করছি।"
অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বিদায়ী কর্মকর্তা মাকসুদা খাতুন বলেন, "আপনারা আমাকে যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, নতুন কর্মকর্তা আসাদকেও সেভাবে সহযোগিতা করবেন। করোনা ও বিভিন্ন দুর্যোগের কঠিন সময়ে আমি এখানে দায়িত্ব পেয়েছিলাম। কিন্তু আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতায় আমি সফলভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি।"
অসুস্থতার দিনগুলোতে সহকর্মীদের ভালোবাসার কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, "আমি আপনাদের মাঝে একজন ভালো মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে চাই। কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন হলেও আপনাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমি পাশে থাকার চেষ্টা করবো। আপনারা সবাই পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখে-শান্তিতে থাকুন, এটাই আমার প্রার্থনা।"
অনুষ্ঠান শেষে অশ্রুসজল চোখে সহকর্মীরা বিদায়ী কর্মকর্তা মাকসুদা খাতুনকে রিকশায় তুলে দিয়ে এক ব্যতিক্রমী ও স্মরণীয় বিদায় জানান।