বিজিবি সূত্র জানায়, ভারতের অভ্যন্তর থেকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইনের উদ্দেশ্যে মহেশপুরের পাকরাইল জিরো পয়েন্ট, যাদবপুর বিওপি, খোসালপুর ও সামন্তাসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় দফায় দফায় লোক জড়ো করার চেষ্টা করে বিএসএফ। বিশেষ করে রাতের আঁধারে এবং ঘন কুয়াশা বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে এই অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। তবে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা ও সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএসএফের এই অপচেষ্টা ভেস্তে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের নদীয়া জেলার বনগাঁ থানার টিলা ও সিঙ্গামুড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যারা রাতে বিভিন্ন যানবাহনে লোকজন এনে সীমান্তের কাঁটাতার সংলগ্ন এলাকায় জড়ো করছে। পরে তাদের বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও নিয়মিত টহলের কারণে এসব প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।
৫৮ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন ঠেকাতে পাকরাইল, চাঁদরতনপুর, কচুয়ারপোতা, বেলেয়াটি ও জীবননগর পাড়াসহ বিভিন্ন জিরো পয়েন্টে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। বিজিবির নিয়মিত টহলের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি) এবং সাধারণ গ্রামবাসীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। গভীর রাত পর্যন্ত সীমান্তের স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে দলবদ্ধভাবে পাহারা দিচ্ছেন তারা।
সীমান্তবর্তী পাকরাইল গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা অনিক ইসলাম বলেন, বিএসএফ মাঝেমধ্যেই ওপার থেকে জোর করে লোকজনকে আমাদের সীমানার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। রাতে আমরা আতঙ্কের মধ্যে থাকি। তবে বিজিবি ক্যাম্প থেকে আমাদের সতর্ক করা হয়েছে। এখন আমরা গ্রামের মানুষজনও বিজিবির সাথে সীমান্ত এলাকায় পাহারা দিচ্ছি, যাতে ওপার থেকে কেউ অবৈধভাবে ঢুকতে না পারে।
সীমান্তের সামান্তা ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে হাবিলদার রেজাউলের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি টহল দল স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দিন-রাত সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে। সামন্তা বিজিবি ক্যাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে অপরাধমূলক কর্মকা- ও অবৈধ পারাপার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা সম্ভব। বর্তমানে পাকরাইল জিরো পয়েন্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী দল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী টহল কমান্ডার হাবিলদার রেজাউল বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন কিংবা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস আলী বলেন, সীমান্ত এলাকায় এর আগে কখনো এত বড় যানবাহনের উপস্থিতি দেখা যায়নি। প্রায় প্রতিদিন রাত ৭টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ৫ থেকে ৩০ জন লোককে সীমান্তে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিজিবির তৎপরতায় তারা সফল হতে পারছে না।
এ বিষয়ে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রফিকুল আলম বলেন, গত কয়েক দিনে মহেশপুর সীমান্তে পুশইনের ১০টি চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত মহেশপুর সীমান্তে কোনো অনুপ্রবেশের (পুশইন) ঘটনা ঘটেনি।
বিএসএফ দফায় দফায় বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা বিজিবির সাংবিধানিক দায়িত্ব। সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। দেশের এক ইঞ্চি ভূখ-ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সদস্যরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিজিবি বদ্ধপরিকর বলে জানান এই কর্মকর্তা।