১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী রাশিয়ায় স্টেট দুমার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের হিসাবে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন।
নির্বাচনের ফল ইউনাইটেড রাশিয়াকে স্টেট দুমায় সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। ৩৫৫টি আসন নিয়ে দলটি ৩০১ আসনের সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজনীয় সীমার অনেক ওপরে রয়েছে। ফলে অন্য দলগুলোর সমর্থন ছাড়াই আইন পাস এবং সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার মতো সংসদীয় ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
২০২১ সালের নির্বাচনে ইউনাইটেড রাশিয়া ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ৩২৬টি আসন পেয়েছিল। এবারের নির্বাচনে ভোটের হার ও আসন—দুই ক্ষেত্রেই দলটির আগের ফল ছাড়িয়ে গেছে। ৩৫৫টি আসন দলটির জন্য স্টেট দুমায় সর্বোচ্চ আসন পাওয়ার নতুন রেকর্ডও তৈরি করেছে। এর আগে ২০১৬ সালের নির্বাচনে দলটি সর্বোচ্চ ৩৪৩টি আসন পেয়েছিল।
২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই রাশিয়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে ইউনাইটেড রাশিয়া। দলটি দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে জয় পেয়ে আসছে।
তবে এবারের নির্বাচন নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। Reuters ও Al Jazeera-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ যুদ্ধবিরোধী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি এবং বিরোধী রাজনৈতিক পরিসরও সীমিত ছিল। সমালোচকেরা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিরোধীদের অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে।
নির্বাচনে ইউনাইটেড রাশিয়ার পর কমিউনিস্ট পার্টি ১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপিআর) ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং নিউ পিপল পার্টি ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জাস্ট রাশিয়া পার্টিও ৫ শতাংশের প্রয়োজনীয় সীমা পেরিয়ে পার্লামেন্টে জায়গা পেয়েছে।